ইউরোপের আকাশে উড়োজাহাজে বোমার হুমকি, ব্যাপক আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৪ অপরাহ্ণ

ইউরোপের আকাশপথে ভয়াবহ এক নিরাপত্তাজনিত আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল গত মঙ্গলবার। এদিন মহাদেশটির বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অন্তত সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। আকস্মিক এই হুমকির ঘটনায় ইউরোপের বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বেশ কয়েকটি দেশে জরুরি অবস্থা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করতে হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সবকটি তল্লাশি চালানোর পর বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক কোনো বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, যখন ইউরোপের একাধিক দেশের আকাশসীমায় থাকা বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে একযোগে বোমা হামলার হুমকি পাঠানো হয়। এই উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে রায়ানএয়ার ও উইজ এয়ারের মতো জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন্সগুলোও ছিল। হুমকির খবর পাওয়ার পরপরই বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিমানকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয় এবং বেশ কিছু উড়োজাহাজকে নিকটস্থ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়। নিরাপত্তার খাতিরে বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে শুরু করে টার্মিনাল এলাকাগুলোতেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এই ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দেশের স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। বিমানবন্দরগুলোর রানওয়ে থেকে দূরে সরিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে এনে সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করা হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এসব অভিযানের কারণে বহু ফ্লাইট সূচিতে দেরি হয় এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বিমান সংস্থাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। উড়োজাহাজগুলোতে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিই ছিল কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধরনের পরিকল্পিত হুমকিকে আকাশপথে নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সবগুলো তল্লাশি শেষে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়নি, তবে এটি সুপরিকল্পিত কোনো অন্তর্ঘাত বা নাশকতার চেষ্টা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন ওই হুমকিগুলো কোথা থেকে এবং কীভাবে পাঠানো হয়েছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই হয়তো কোনো মহল থেকে এই ভুয়া বা মিথ্যা হুমকির বার্তা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কোনো দেশের প্রশাসনই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী উড়োজাহাজগুলো পরবর্তী সময়ে যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বা ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন