দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে জিপিএ‑৫: রফিকুলের অনুপ্রেরণামূলক সাফল্য
ঢাকার এক সরকারি কলেজে পড়া রফিকুলের নাম সম্প্রতি শিক্ষাজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জন্মগতভাবে দু’হাতের বিকলাঙ্গ রফিকুল, পা দিয়ে লিখে গড়ে তোলা জিপিএ‑৫ ফলাফল নিয়ে গর্বিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রফিকুলের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল মাধ্যমিক পর্যায়ে, যখন তার পরিবার ও শিক্ষকরা তার জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর, তিনি পা দিয়ে কিবোর্ড ব্যবহার করে নোটস নিতেন এবং পরীক্ষার সময়ও একই পদ্ধতিতে উত্তর লিখতেন। তার অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ, প্রথম সেমিস্টারে জিপিএ‑৫ পেয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সাফল্য অর্জন করেন।
এই সাফল্যকে আরও উঁচুতে নিয়ে গিয়েছিলেন রফিকুলের সাম্প্রতিক ফলাফল। একই সেমিস্টারের পুনরায় মূল্যায়নে, তিনি আবারও জিপিএ‑৫ স্কোর করে নিজের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছেন। শিক্ষকমণ্ডলী ও সহপাঠীরা রফিকুলের এই অর্জনকে ‘অসাধারণ’ বলে প্রশংসা করছেন এবং তার উদাহরণকে অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরছেন।
রফিকুলের পরিবারও তার এই সাফল্যকে গর্বের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে। তার মা বলেন, “আমার সন্তানকে দেখলে বুঝতে পারি, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়, যদি ইচ্ছা শক্তিশালী হয়। আমরা সবসময় তার পাশে ছিলাম এবং এখন তার এই সাফল্য আমাদের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার।”
কলেজের প্রধান শিক্ষকও রফিকুলের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, “রফিকুলের মতো শিক্ষার্থী আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য—সবার জন্য সমান সুযোগ—কে বাস্তবায়িত করে। আমরা তার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও সহায়তা সরঞ্জাম প্রদান করেছি, যা তার শিক্ষার গতি বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার দায়িত্বে থাকা বিভাগও রফিকুলের সাফল্যকে দেশের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রযুক্তি-ভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে রফিকুলের মতো শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণে কোনো বাধা না পায়।
রফিকুলের গল্প সামাজিক মিডিয়ায়ও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার ছবি ও সাফল্যের খবর শেয়ার হয়ে হাজার হাজার লাইক ও মন্তব্য পেয়েছে। অনেক তরুণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তার থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন।
এই অর্জন রফিকুলের ব্যক্তিগত দৃঢ়সংকল্পের পাশাপাশি, পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহায়তার ফল। তিনি ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর শিক্ষার লক্ষ্য রাখছেন এবং দেশের উন্নয়নে নিজের ভূমিকা রাখতে চান। রফিকুলের এই যাত্রা দেখায়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানসিক দৃঢ়তা ও সঠিক সহায়তা দিয়ে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]