জয়পুরহাটে ইত্যাদি দেখার ভিড়ে দুই শতাধিক মোবাইল চুরি, আটক ১
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির দৃশ্যধারণকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাটের কালাইয়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতায় রূপ নিয়েছে। শত শত মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা দুই শতাধিক দর্শকের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নান্দাইলদীঘি কলেজ মাঠে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ভিড় জমিয়েছিল, তবে নিরাপত্তার ফাঁক গলে চোর চক্রের তৎপরতা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই দৃশ্যধারণ দেখতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছিল। নান্দাইলদীঘি কলেজ মাঠ ও এর আশেপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়েছিল। ইত্যাদির মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সরাসরি দেখার জন্য দর্শকের আবেগ ছিল চরমে। এই বিপুল জনসমাগমের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আয়োজকরা সতর্ক থাকলেও, জনসমুদ্রের মধ্যে মিশে থাকা সংঘবদ্ধ চোরেরা তাদের পরিকল্পনা সফল করেছে। অত্যন্ত কৌশলে এবং ক্ষিপ্রতার সাথে মানুষের পকেট থেকে মোবাইল ফোনগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে যখন দর্শকরা ফিরতে শুরু করেন, তখনই একে একে অনেকেই আবিষ্কার করেন যে তাদের পকেটে বা হাতে থাকা স্মার্টফোনটি আর নেই।
ভুক্তভোগী দর্শকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাটিতে তল্লাশি চালানো হয়। অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে গোলাম রতন (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কেবল একজন ব্যক্তির কাজ নয়, বরং একটি সুসংগঠিত চক্র এই চুরির পেছনে জড়িত থাকতে পারে। বড় ধরনের জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠানগুলোতে সাধারণত পকেটমার ও চোর চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। যারা বিনোদন পাওয়ার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন, তারা এমন অপ্রত্যাশিত চুরির শিকার হয়ে অনুষ্ঠানের আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও চুরি হওয়া মোবাইলগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একইসাথে, ভবিষ্যতে এমন বড় কোনো জনসমাবেশ বা ইভেন্টের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আসছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জনসমাগম স্থলে ব্যক্তিগত মূল্যবান সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে দর্শকদের আরও সচেতন হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ভিড়ের মধ্যে ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ থাকলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করেন, যার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। তবে কেবল সচেতনতা নয়, আয়োজক ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরির দায়িত্বটিও অনস্বীকার্য। এই ঘটনায় কালাই থানায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসী অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন বড় অনুষ্ঠানে যেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য বিশেষ নজরদারি প্রত্যাশা করছেন। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যেন সাধারণ দর্শকরা কোনো উৎসবে গিয়ে নিজের মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]