খুঁজুন
, ,

জয়পুরহাটে ইত্যাদি দেখার ভিড়ে দুই শতাধিক মোবাইল চুরি, আটক ১

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
জয়পুরহাটে ইত্যাদি দেখার ভিড়ে দুই শতাধিক মোবাইল চুরি, আটক ১

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির দৃশ্যধারণকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাটের কালাইয়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতায় রূপ নিয়েছে। শত শত মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা দুই শতাধিক দর্শকের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নান্দাইলদীঘি কলেজ মাঠে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ভিড় জমিয়েছিল, তবে নিরাপত্তার ফাঁক গলে চোর চক্রের তৎপরতা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই দৃশ্যধারণ দেখতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছিল। নান্দাইলদীঘি কলেজ মাঠ ও এর আশেপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়েছিল। ইত্যাদির মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সরাসরি দেখার জন্য দর্শকের আবেগ ছিল চরমে। এই বিপুল জনসমাগমের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আয়োজকরা সতর্ক থাকলেও, জনসমুদ্রের মধ্যে মিশে থাকা সংঘবদ্ধ চোরেরা তাদের পরিকল্পনা সফল করেছে। অত্যন্ত কৌশলে এবং ক্ষিপ্রতার সাথে মানুষের পকেট থেকে মোবাইল ফোনগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে যখন দর্শকরা ফিরতে শুরু করেন, তখনই একে একে অনেকেই আবিষ্কার করেন যে তাদের পকেটে বা হাতে থাকা স্মার্টফোনটি আর নেই।

ভুক্তভোগী দর্শকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাটিতে তল্লাশি চালানো হয়। অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে গোলাম রতন (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কেবল একজন ব্যক্তির কাজ নয়, বরং একটি সুসংগঠিত চক্র এই চুরির পেছনে জড়িত থাকতে পারে। বড় ধরনের জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠানগুলোতে সাধারণত পকেটমার ও চোর চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। যারা বিনোদন পাওয়ার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন, তারা এমন অপ্রত্যাশিত চুরির শিকার হয়ে অনুষ্ঠানের আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও চুরি হওয়া মোবাইলগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একইসাথে, ভবিষ্যতে এমন বড় কোনো জনসমাবেশ বা ইভেন্টের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আসছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জনসমাগম স্থলে ব্যক্তিগত মূল্যবান সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে দর্শকদের আরও সচেতন হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ভিড়ের মধ্যে ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ থাকলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করেন, যার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। তবে কেবল সচেতনতা নয়, আয়োজক ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরির দায়িত্বটিও অনস্বীকার্য। এই ঘটনায় কালাই থানায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসী অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন বড় অনুষ্ঠানে যেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য বিশেষ নজরদারি প্রত্যাশা করছেন। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যেন সাধারণ দর্শকরা কোনো উৎসবে গিয়ে নিজের মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকেন।

পল্লবী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
   
পল্লবী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু

রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় রবিবার রাতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাত সোয়া ৮টার দিকে থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের ছোড়া একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার আকস্মিকতায় থানায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্য ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও থানা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, দুর্বৃত্তরা পল্লবী থানার পাশের ফ্লাইওভারের ওপর থেকে থানা লক্ষ্য করে ককটেলটি নিক্ষেপ করে। ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচ বরাবর এই ছোড়া ককটেলটি থানার প্রাঙ্গণে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে চলে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। কারা বা কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের উস্কানিমূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় অন্ধকার থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পল্লবী থানা ভবন ও আশপাশের এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পুলিশ খতিয়ে দেখছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুলিশি নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা কি না, তা নিয়েও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক, সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও কিছুটা উদ্বেগ কাজ করছে। পল্লবী থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। থানায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা নিরাপদ রয়েছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিশেষ টিমগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এখন ওই ফ্লাইওভার ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল বাড়িয়ে দিয়েছেন।

রাজধানীতে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে না। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ যে কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং থানায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ

রাজধানীর পল্লবী থানা প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে সংঘটিত এই ঘটনাটি এলাকায় বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, এদিন রাত সোয়া আটটার দিকে পল্লবী থানার পাশের ফ্লাইওভারের ওপর থেকে দুর্বৃত্তরা থানা লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত ককটেলটির আঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়। ঘটনার পরপরই থানা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একটি অসাধু গোষ্ঠী বা চক্র অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তবে কারা এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন এবং সম্ভাব্য হামলাকারীদের খোঁজে আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে হামলার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার রহস্য উদঘাটন করতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিভিন্ন দিক থেকে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে থানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে পুলিশ আশা করছে।

রোববারের এই ঘটনার পর থেকে পল্লবী থানা এবং এর আশেপাশের এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকেও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য যে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য বা সাধারণ মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিস্ফোরণটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে। বর্তমানে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

নাগরিকের আবেদনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
নাগরিকের আবেদনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা

সরকারি প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া সাধারণ মানুষের আবেদন নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। দেশের কোনো নাগরিক প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে, সেই আবেদনটির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও যথাযথ কারণ না দর্শিয়ে তা অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার স্বার্থে এই নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের মতে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সরকারি দপ্তরের দায়িত্ব হলো নাগরিকের আবেদনের ওপর একটি যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া।

রবিবার এই সংক্রান্ত একটি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তারা চাইলে কোনো নাগরিকের আবেদন অবহেলা করে ফেলে রাখতে পারেন না। এটি কেবল নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী নয়, বরং এটি প্রশাসনিক শৈথিল্যের বহিঃপ্রকাশও বটে। বিচারকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবেদনকারী যখন কোনো প্রতিকারের জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হন, তখন রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কর্তব্য হলো সেই আবেদনের একটি আইনানুগ নিষ্পত্তি করা। যদি কোনো কারণে আবেদনটি গৃহীত না হয় বা তা বিলম্বিত হয়, তবে কেন এমনটি ঘটছে, তার যৌক্তিক কারণ অবশ্যই আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

আদালত আরও বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা অপরিহার্য। কোনো নাগরিকের আবেদন নিষ্পত্তিতে অহেতুক কালক্ষেপণ করা প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবকেই নির্দেশ করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কারণ উল্লেখ না করে বছরের পর বছর ফাইল আটকে রাখা বা আবেদনের বিষয়ে নীরব থাকা কেবল প্রশাসনিক বিড়ম্বনা বাড়ায় না, বরং এটি মানুষের মধ্যে বিচার পাওয়ার প্রত্যাশাকেও ক্ষুণ্ণ করে। তাই আবেদন প্রাপ্তির পর একটি নির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা আবেদনকারীকে অবহিত করা সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত কাজের একটি অংশ হওয়া উচিত।

এই রিট মামলার শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে লড়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএইচএম মুশফিকুর রহমান। তিনি আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, এটি দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার করবে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরে ফাইল আটকে রাখার যে প্রবণতা রয়েছে, এই রায়ের ফলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের এই নির্দেশনা যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে সরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তির মাত্রা অনেকটা কমে আসবে। কোনো নাগরিক যখন রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য বা সুবিচারের আশায় যান, তখন দ্রুত সাড়া পাওয়া তার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। হাইকোর্টের এই রায় একইসঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশা নিরসনে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উচ্চ আদালতের এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ
পল্লবী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ নাগরিকের আবেদনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব নিরূপণে নতুন সুবিধা আনছে এআই চ্যাটবট ক্লড ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ চত্বর বাণিজ্যিক বিরোধ নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার বার্তা চীনের জনগণ আর স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেবে না: রুহুল কবির রিজভী পাল্লা বাড়ানোর ঘোষণা ইরানের: নতুন করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য রাজধানীর ভাটারা এলাকায় স্কুল বাসে অগ্নিসংযোগ ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস গুহায় পাওয়া প্রাগৈতিহাসিক বিশাল মুরগি, নতুন প্রজাতি ‘মেগাপোডিয়াস রোকুসি’