খুঁজুন
, ,

অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার

অশিক্ষিত হওয়ার কারণে প্রায়ই শুনতে হতো কটু কথা। এক ব্যক্তির করা অপমানজনক মন্তব্য যেন হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল রাজুর। তখন থেকেই নিজেকে প্রমাণ করার জেদ চেপে বসে তার মাথায়। পেশায় নাপিত হলেও জ্ঞানের পিপাসাকে তিনি দমন করতে পারেননি। অপমানের জ্বালায় ভেঙে না পড়ে সেই গঞ্জনার জবাব দিতে তিনি বেছে নিয়েছেন বইয়ের জগতকে। এখন রাজুর সেলুনে গেলেই দেখা মেলে সারি সারি বইয়ের তাক, যা আজ একটি লাইব্রেরিতে রূপ নিয়েছে। এলাকার মানুষের কাছে রাজুর এই উদ্যোগ এখন দারুণ প্রশংসিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত অনেকদিন আগে। সেলুনে কাজ করার সময় এক খদ্দের তাকে বলেছিলেন, তুমি নাপিত, তুমি অশিক্ষিত, তুমি আমার সাথে কী কথা বলবে। এই বাক্যটি রাজুর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। কিন্তু তিনি সেই ক্ষোভকে প্রতিশোধে রূপ না দিয়ে সৃজনশীল কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভেবেছিলেন, শিক্ষার অভাবে মানুষ যদি তাকে নিচু চোখে দেখে, তবে তিনি নিজেই নিজের পড়াশোনার ব্যবস্থা করবেন এবং অন্যদেরও পড়ার সুযোগ করে দেবেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি নিজের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ দিয়ে বই কেনা শুরু করেন।

বর্তমানে রাজুর সেলুনে প্রবেশের পর অন্য আট-দশটি চুল কাটার দোকানের মতো শুধু কাঁচি আর চিরুনির আওয়াজই পাওয়া যায় না। এখন সেখানে ঢুকলে বইয়ের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। দোকানের দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা কাঠের তাকে সাজানো আছে বিভিন্ন ধরনের বই। এখানে ছোট গল্প, উপন্যাস থেকে শুরু করে জীবনমুখী ও সাধারণ জ্ঞানের বইয়ের সমাহার রয়েছে। চুল কাটার অপেক্ষায় থাকা খদ্দেররা এখন আর অহেতুক বসে থাকেন না। কেউ কেউ হাত বাড়িয়ে নিচ্ছেন পছন্দের বইটি, আবার কেউ সময় কাটচ্ছেন পত্রিকা পড়ে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, আগে সেলুনে গেলে মানুষ নানা ধরনের আড্ডায় সময় কাটাত, যার বেশিরভাগই ছিল অর্থহীন। কিন্তু রাজুর এই উদ্যোগে এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এবং বয়স্ক পাঠকরাও এখন এখানে এসে বই পড়ছেন। কেউ চাইলে এখান থেকে বই বাসায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন। রাজু নিজে অক্ষরজ্ঞানহীন থাকলেও বইয়ের প্রতি তার এই গভীর টান এবং অন্যদের বইমুখী করার প্রচেষ্টা সমাজের অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের দোকানকে লাইব্রেরি বানানোর পেছনে রাজুর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই ঠিকই, কিন্তু আছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি। তিনি জানান, তাকে দেওয়া সেই অপমানের কথা তিনি এখনো ভোলেননি, তবে সেই অপমানই তাকে আজ মানুষের কাছে সম্মান এনে দিয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন এমন কিছু করতে যা অন্যদের জীবনে উপকারে আসে। আজ রাজুর কাছে বই শুধু পড়ার উপকরণ নয়, বরং সেটি তার ব্যক্তিত্বের নতুন পরিচয়। সেলুনে আসা মানুষদের তিনি নিয়মিত পড়াশোনার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন, যা অনেকের ভাবনা বদলে দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজুর এই লাইব্রেরির গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। বইয়ের গুরুত্ব যে কত বড়, তা যেন রাজু হাতে-কলমে শিখিয়ে দিচ্ছেন। তার এই ছোট্ট সেলুনটি এখন কেবল চুল কাটার জায়গা নয়, বরং এলাকার জ্ঞানপিপাসু মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যারা তাকে অশিক্ষিত বলে তুচ্ছ করেছিলেন, তারা আজ রাজুর এই উদ্যোগ দেখে অবাক। রাজু প্রমাণ করেছেন যে, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনে নয়, বরং জানার আগ্রহ ও সৃজনশীল কাজের মধ্যেও রয়েছে। তার এই সাহসী পথচলা সমাজের জন্য এক বড় বার্তা নিয়ে এসেছে, যেখানে ঘৃণা ও অপমানের বদলে মানুষ মেধার জয়গান গাইছে।

বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা থামাল পিএসজি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা থামাল পিএসজি

ইউরোপীয় ফুটবলের চলতি মৌসুমে উড়ন্ত ফর্মে ছিল বার্সেলোনা। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্যারিসের মাটিতে পা রেখেছিল কাতালান ক্লাবটি। তবে পার্ক দে প্রিন্সেসে এসে তাদের সেই অপরাজেয় যাত্রার লাগাম টেনে ধরল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ৪-২ গোলের ব্যবধানে বার্সেলোনাকে হারিয়ে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা প্রমাণ করল যে, নিজেদের মাঠে তারা কতটা ভয়ঙ্কর। হান্সি ফ্লিকের অধীনে মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও, এই ম্যাচে রক্ষণভাগের দুর্বলতা আর পিএসজির গতিময় আক্রমণের সামনে খেই হারিয়ে ফেলল বার্সা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক। পিএসজি প্রথমার্ধের শুরু থেকেই বার্সার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। ম্যাচের একদম শুরুর দিকেই পিএসজির খিচা কাভারাস্কেইয়ার একটি শট গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করলেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে, যা বার্সাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। ধীরে ধীরে বার্সেলোনা ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। অ্যান্থনি গর্ডন এবং পেদ্রি মাঝমাঠে দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল মেলেনি। দানি ওলমোর একটি জোরালো শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ ঘটনাবহুল, তবে তা কেবল গোলের জন্য নয়, খেলোয়াড়দের ইনজুরির জন্যও। পায়ের পেছনের পেশিতে চোট পাওয়ায় পিএসজি তাদের গুরুত্বপূর্ণ তারকা উসমান দেম্বেলেকে হারায়। এর কিছুক্ষণ পরই বার্সেলোনার দানি ওলমোও চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই দুই খেলোয়াড়ের প্রস্থান ম্যাচে ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের প্রয়োজন তৈরি করে। দেম্বেলের বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস বার্সার রক্ষণে একাধিকবার ভীতি ছড়িয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভ দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, ওলমোর জায়গায় নামা ফেরমিন লোপেজও গোল পাওয়ার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার চিপ করা শট সাফোনভ দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন।

ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙে ৩৮ মিনিটের মাথায়। লামিন ইয়ামালের একটি পাস মাঝপথে ইন্টারসেপ্ট করে পিএসজি প্রতি-আক্রমণ শুরু করে। বলটি পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন পিএসজির দেজিরে দুয়ে। এই গোলটি ম্যাচের মোমেন্টাম প্যারিসের ক্লাবটির দিকে ঘুরিয়ে দেয়। বিরতির পর সমতায় ফেরার তাড়না নিয়ে মাঠে নামে বার্সেলোনা। তবে ৫০ মিনিটে তারা আবারও গোল হজম করার উপক্রম হয়েছিল। আশরাফ হাকিমি গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগটি হাতছাড়া করেন, যা বার্সার জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা আরও উত্তাপ ছড়ায়। বার্সেলোনা সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং পর্যায়ক্রমে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের খেলা চলতে থাকে। একপর্যায়ে বার্সেলোনা সমতায় ফিরলেও পিএসজি বারবার লিড পুনরুদ্ধার করে। গোলের পর গোলবিনিময় হলেও শেষ পর্যন্ত পিএসজি ব্যবধান বাড়িয়ে ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে। এই হারের মাধ্যমে মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। পিএসজির এই জয় ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলল এবং হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনাকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য নতুন করে পরিকল্পনা করার বার্তা দিল।

ফোডেনের হ্যাটট্রিকে উড়ল ম্যানচেস্টার সিটি, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ফোডেনের হ্যাটট্রিকে উড়ল ম্যানচেস্টার সিটি, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর জয়

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি স্মরণীয় রাত পার করল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। দুই দলই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল এবং দুই ম্যাচেই পাওয়া গেছে গোলের দেখা। সিটির ক্ষেত্রে ম্যাচটি ছিল একপেশে দাপট, আর লিভারপুলের ম্যাচটি ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে উভয় দলই।

ম্যানচেস্টার সিটি তাদের ডেরায় আতিথ্য দিয়েছিল এইকে এথেন্সকে। দলের কোচ এনজো মারেসকার শিষ্যরা এদিন মাঠজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় সিটি। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের একটি ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার পর এলিয়ট অ্যান্ডারসন ফিরতি শটে বল জালে জড়িয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল সিটি, কিন্তু অ্যালানের একটি শট গোলপোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। তবে তাতে সিটির আক্রমণের গতি কমেনি। রিকো লুইসের বাড়ানো পাস থেকে দারুণ দক্ষতায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিল ফোডেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের গোলখরা কাটিয়ে তিনি তার ফর্মের জানান দেন।

বিরতির ঠিক পর এইকে এথেন্স একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিল। স্ট্যাভ্রোস পিলিওস সিটির রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান। তবে এই গোলটি যেন সিটিকে আরও তাতিয়ে দেয়। এরপর শুরু হয় ফিল ফোডেনের একক শো। ফোডেনের পাস থেকে ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন রায়ান শেরকি। এরপর ফোডেন নিজেই জ্বলে ওঠেন। অসাধারণ একটি ভলিতে ব্যবধান আরও বাড়ান তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের আনন্দ উৎসবে ভাসান এই ইংলিশ তারকা। সব মিলিয়ে গোল করা এবং গোল করানোয় ফোডেন ছিলেন ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক। ৫-১ গোলের বড় জয়ে সিটি প্রমাণ করল তারা জয়ের ধারায় ফিরতে জানে।

অন্যদিকে অ্যানফিল্ডের গল্পটি ছিল একদম ভিন্ন। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লিভারপুলের শুরুটা ছিল চরম হতাশাজনক। কোচ আন্দোনি ইরাওলা এদিন মূল দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখেছিলেন। যার খেসারত দিতে হয় ম্যাচের শুরুতেই। রক্ষণভাগের ভুলে খেলার প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যেই দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল। ভার্জিল ফন ডাইকের একটি ভুল হেড থেকে বিপত্তি বাড়ে, যা দ্রুতই ভিয়ারিয়ালকে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যায়।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল যেন খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসে। খেলার ছন্দ ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন দলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তার সাথে দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেন তরুণ রিও এনগুমোহা। একপর্যায়ে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় লিভারপুল। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগকে। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। এক সময় পরাজয়ের শঙ্কা জাগলেও, শেষ মুহূর্তে নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় দলটি। দুই ভিন্ন ধাঁচের জয় দিয়ে রাতে জয়জয়কার হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দুই বড় দলেরই।

মহানবীর কূটনৈতিক দক্ষতা ও আরবের রাজনৈতিক রূপান্তর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মহানবীর কূটনৈতিক দক্ষতা ও আরবের রাজনৈতিক রূপান্তর

ইসলামের ইতিহাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম কেবল আধ্যাত্মিক দীক্ষার আধার নয়, বরং তাঁর অনন্য কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক জীবন্ত দলিল। বিশেষ করে মক্কা বিজয়ের আগে এবং পরে আরবের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে যে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছিল, তা তাঁর অতুলনীয় কৌশলেরই প্রতিফলন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অষ্টম হিজরির ঘটনাবলি আরবের তৎকালীন গোত্রভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিল।

মক্কা বিজয়ের ঠিক আগের সময়টিতে আরবের অধিকাংশ শক্তিশালী গোত্র ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে বেশ সতর্ক ও সংশয়বাদী অবস্থান গ্রহণ করেছিল। তারা সরাসরি বিরোধিতা না করলেও এক ধরনের দ্বিধা ও অবিশ্বাসের দোলাচলে ছিল। এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। মহানবী (সা.) তার বিচক্ষণ কূটনৈতিক চাল ও ধৈর্যের মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠেন। কোনো ধরনের রক্তপাতহীন বা ন্যূনতম রক্তপাতের মাধ্যমে মক্কা বিজয় কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং ছিল তাঁর অসামান্য কূটনৈতিক সাফল্যের ফসল। এই বিজয়ের পর আরবের রাজনৈতিক মানচিত্র আমূল বদলে যায়।

তৎকালীন আরবের সমাজ কাঠামো ছিল মূলত গোত্রকেন্দ্রীক। একেকটি গোত্র ছিল একেকটি শক্তির আধার। মহানবী (সা.) এমন এক কৌশল অবলম্বন করেছিলেন যেখানে শত্রুরাও মিত্রতায় রূপান্তর হওয়ার সুযোগ পেত। ইসলামের আদর্শ প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় শান্তি ও সমঝোতার পথকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে তিনি যেভাবে কোরাইশদের সঙ্গে আচরণ করেছিলেন, তা ইতিহাসে দয়ার এক অনন্য নজির হয়ে আছে। তিনি ক্ষমা ও উদারতার এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যা শত্রুদের হৃদয়কেও ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে টেনে এনেছিল।

অষ্টম হিজরির পর থেকেই মূলত আরবের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে এক আমূল পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে। বিভিন্ন গোত্র যারা আগে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বৈরী ছিল, তারা মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিত্ব ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটি ছিল তাঁর দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল। তিনি জানতেন যে, তলোয়ারের চেয়ে বাচনভঙ্গি ও আদর্শের প্রভাব অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েও কখনো প্রতিশোধপরায়ণ হননি, বরং শান্তিচুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজেছেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম যেভাবে আরবের জনজীবনে প্রভাব বিস্তার করেছিল, তা ছিল অভাবনীয়। এই সফলতার পেছনে ছিল মহানবী (সা.)-এর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকা। তিনি কেবল একজন ধর্মপ্রচারক হিসেবেই নন, বরং একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। তাঁর নেওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সুচিন্তিত। তিনি গোত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বুঝতে পারতেন এবং সে অনুযায়ী নিজের পদক্ষেপ নির্ধারণ করতেন।

পরিশেষে বলা যায়, মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে প্রাপ্ত এই কূটনৈতিক শিক্ষা আধুনিক যুগেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর নীতি আজও গবেষণার বিষয়। আরবের সেই উত্তাল সময়ে তিনি যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা কেবল সেই সময়ের জন্যই নয়, বরং সকল কালের মানুষের জন্য একটি পথপ্রদর্শক। তাঁর এই আদর্শ ও কূটনৈতিক দক্ষতা ইসলামের প্রসারে যে ভূমিকা পালন করেছিল, তা আজও ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের কাছে এক বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর এই শান্তি ও সমঝোতার পথে হাঁটার নীতিই ছিল ইসলামের প্রকৃত শক্তি ও সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

সর্বশেষ
বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা থামাল পিএসজি ফোডেনের হ্যাটট্রিকে উড়ল ম্যানচেস্টার সিটি, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর জয় মহানবীর কূটনৈতিক দক্ষতা ও আরবের রাজনৈতিক রূপান্তর রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে মারধর ও ফটিকছড়িতে রাবার পাচার: দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, প্রাণ হারালেন দুই নারী রাজশাহীতে বন্ধ কলকারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি রুহুল কবির রিজভীর ঝিনাইদহে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কাশিপুর, আহত ২৫ মানি লন্ডারিং মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড ভালুকা সাবরেজিস্ট্রারের এজলাসে হট্টগোল, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ
Advertisement