শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিলে জাতি শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী
একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য হলো নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভার সঠিক বিকাশ ঘটানো। শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা চর্চার জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ভিত্তি মজবুত করবে। এমনটাই অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশুদের বিকাশে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
শিশুরাই একটি দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সুপ্ত মেধা ও অনন্য প্রতিভাকে বিকশিত করার মাধ্যমেই একটি উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। রাষ্ট্রনায়ক মনে করেন, শৈশব থেকেই যদি শিশুদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা যায়, তবে তারা বড় হয়ে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারবে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের গতি ত্বরান্বিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাঠ্যক্রমের বাইরে সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, কেবল পুঁথিগত বিদ্যার ওপর নির্ভর না করে শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে প্রতিটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, একটি শিশুর সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপুষ্টি দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে শিশুদের একটি সুন্দর আগামীর পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যখন একটি শিশু তার প্রতিভা বিকাশের পূর্ণ সুযোগ পাবে, তখনই সে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিশুদের বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিশুদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ না দিয়ে তাদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে। একইসঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কেও শিশুদের সচেতন করে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হাতেই দেশের দায়িত্ব অর্পিত হবে। তাই তাদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাতে হবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিতে হবে। যখন প্রতিটি শিশু তার মেধা ও দক্ষতা অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে, তখনই দেশ এক শক্তিশালী ও মেধাবী জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
সরকার শিশুকল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে শিশুদের বিকাশের লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শিশু-বান্ধব সমাজ গঠনের মাধ্যমেই প্রকৃত সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]