খুঁজুন
, ,

“মাদকের চেয়েও ভয়াবহ ক্ষতি করেছে ক্যাসিনো জুয়া”—ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
“মাদকের চেয়েও ভয়াবহ ক্ষতি করেছে ক্যাসিনো জুয়া”—ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খলিশাকুড়ি গ্রামে মাদক, ক্যাসিনো (জুয়া) ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত প্রায় ১১টায় আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূল্লী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ভূল্লী থানার অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকের পাশাপাশি ক্যাসিনো (জুয়া) এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও আমাদের কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এ লড়াই পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়। আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকুন।”

তিনি আরও বলেন, “এখন মাদকের চেয়েও ভয়াবহভাবে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল ক্যাসিনো (জুয়া)। অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে, অসংখ্য তরুণ অপরাধের পথে জড়িয়ে পড়েছে। জুয়ার কারণে পারিবারিক কলহ, ঋণের বোঝা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ বেড়ে যায়। তাই মাদকের পাশাপাশি জুয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে ভূল্লী থানা পুলিশ।”

ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, ক্যাসিনো জুয়া কিংবা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত কোনো পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। তিনি মাদক ও জুয়া সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য গোপনীয়তার সঙ্গে পুলিশকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান এবং তথ্যদাতার পরিচয় সর্বোচ্চ গোপন রাখার আশ্বাস দেন।

দেবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খোকন বলেন, সমাজকে মাদক ও জুয়ার অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে পুলিশের উদ্যোগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেবীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি তহিদুল ইসলাম রিংকু বলেন, মাদক ও ক্যাসিনো জুয়া যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে। একটি সুন্দর সমাজ গঠনে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

সভায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা ভূল্লী থানার চলমান মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। তারা এলাকায় মাদক, ক্যাসিনো জুয়া, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির

দেশের বিদ্যমান সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির কার্যকারিতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তি। গত মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এই কমিটিকে দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং এক ধরনের প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, বর্তমান সংবিধান সংশোধন কমিটি সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয় এবং এটি আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। তারা মনে করেন, যেভাবে তড়িঘড়ি করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে জনআকাঙ্ক্ষার চেয়ে দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের প্রতিফলন ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রম জুলাই বিপ্লবের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তারা।

ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের দাবির সপক্ষে একটি বিকল্প প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। তাদের মতে, সংবিধান সংস্কারের মতো একটি সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা প্রস্তাব করেছেন যে, গণভোটের রায় অনুযায়ী একটি স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এই পরিষদের মাধ্যমে দেশের সকল স্তরের মানুষের মতামত গ্রহণ করে সংবিধানের প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সংশোধনী আনতে হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা বিশেষ কমিটির দ্বারা নয়, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে নস্যাৎ করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ছাত্রশক্তি রুখে দেবে। তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, সংবিধান সংশোধন হতে হবে গণমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী, কোনো আরোপিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়। বর্তমান কমিটি বাতিল করে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রাজনীতি সচেতন মহলের মতে, ছাত্রশক্তির এই বিবৃতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সংবিধান সংশোধন একটি দীর্ঘমেয়াদী ও জাতীয় প্রভাব বিস্তারকারী প্রক্রিয়া। তাই এ ধরনের কাজে সব মহলের আস্থাশীল হওয়া প্রয়োজন। তবে ছাত্রশক্তির মতো একটি সচেতন ছাত্র সংগঠনের এই জোরালো প্রতিবাদ এবং বিকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের এই দাবি ও আপত্তির প্রতি কতটা গুরুত্ব দেয় এবং আগামী দিনে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না। আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

পরিবারের অভাব দূর করতে এবং বাবার অকাল মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে গাইবান্ধা থেকে গাজীপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ তৌফিক হোসেন। স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। মাত্র বাইশ বছর বয়সী এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছাড়া সেই তরুণ এখন নিথর দেহ হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা তৌফিক হোসেন। বিগত কয়েক দিন ধরে কারখানা এলাকায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলছিল। এই আন্দোলন চলাকালীন এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কোনো এক পর্যায়ে তৌফিক গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় কারখানায় কাজ নিয়েছিলেন তৌফিক। তার ওপর নির্ভর করেই চলত তাদের পরিবারের অন্নসংস্থান। কিন্তু কারখানার মজুরি আন্দোলনের জের ধরে যে সহিংসতার শিকার হতে হবে, তা কেউ ভাবেনি। তৌফিকের স্বজনরা জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তার এই মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি দরিদ্র পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে তৌফিকের এই মর্মান্তিক পরিণতির খবরে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র বা উত্তেজনার মুখে সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দাবি জানিয়েছেন, যেন দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয় এবং শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশি প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। তৌফিকের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে।

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তৌফিকের মতো একজন কর্মঠ তরুণের প্রাণ ঝরে যাওয়ায় সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পোশাক শিল্পের এই অস্থিরতা নিরসনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর আলোচনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ। তৌফিকের পরিবার এখন শোকের সাগরে ভাসছে, আর তাদের চোখে মুখে এখন শুধুই হারানো স্বজনের স্মৃতি। জীবিকার তাগিদে শহরে আসা তরুণের এমন পরিণতির দায়ভার কার, সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে নেমে আসা পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকা। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জালকুড়ি সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শ্রমিকরা তাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উত্তেজিত শ্রমিকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ শুরু করে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন বা তাদের আঘাতের ধরণ কেমন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল এলাকায় শ্রমিকদের এই অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও। দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, তারা শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শ্রমিকরা তাদের ওপর চড়াও হওয়ায় বাধ্য হয়েই বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানা এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। মজুরি বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে কেন্দ্র করে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় এক ধরণের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, দেশের পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবি দীর্ঘদিনের। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে আসছেন। আজকের এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের জরুরি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। কারণ, এই ধরণের সহিংসতা দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে, তবে সড়কে এখনো থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সর্বশেষ
সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ১ লাখ টাকায় তিন ঘাতক ভাড়া, বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছে সরকার: মজিবুর রহমান মঞ্জু সিউলে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে বিএনপির প্রতিনিধি দলের ঢাকা ত্যাগ শ্রমিক অসন্তোষ ও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে জাতীয় শ্রমিক শক্তির কঠোর সমালোচনা চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বাগত জানাল বিএনপি নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করল বিসিবি জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
Advertisement