খুঁজুন
, ,

বন্যা নিয়ন্ত্রণে আকাশচুম্বী ব্যয়ে খসড়া প্রকল্প, প্রশ্ন ঢের: মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে

মোঃ আবদুল রহিম, ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
বন্যা নিয়ন্ত্রণে আকাশচুম্বী ব্যয়ে খসড়া প্রকল্প, প্রশ্ন ঢের: মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে
মুহুরী কহুয়া নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে ৪ হাজার ৬৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকার খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। এ প্রস্তাবনায় যুক্ত হয়নি প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকের মতে অধিগ্রহণসহ প্রকল্প ব্যয় দশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গতকাল শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন সমীক্ষার খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রস্তাবিত খসড়া প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যটি উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর যৌথ সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হয়। এতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থা প্রকল্পের পুনর্বাসনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাবিত অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
ভূমি অধিগ্রহণ ব্যতিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুননির্মাণ, নদীর ভাঙনকবলিত তীর সংরক্ষণ, জলাধার পুনঃখনন, রেগুলেটর তৈরিসহ ১০ খাতে ৪ হাজার ৬৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা প্রস্তাবিত ব্যয় উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে বর্তমান বাঁধে গাছ, ঝোপঝাড় দূরীকরণে ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা প্রসঙ্গে তথ্য উপস্থাপন করেন আইডব্লিউএম এর পরিচালক তরুণ কান্তি মজুমদার। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই বছরের সমীক্ষায় প্রকল্প এলাকার আয়তন ৫৫৭ বর্গ কিলোমিটার। প্রকল্প এলাকায় খাল রয়েছে ১৮৪টি, দৈর্ঘ্য ৫০০ কিলোমিটার। গতবছর বন্যায় মুহুরী-কহুয়া-সিলোনিয়া নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১০২ স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছিল। নদীগুলোতে পানি ধারণ ক্ষমতা কম, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রকল্পের শেষ স্থান ধরা হয়েছে মুহুরী রেগুলেটর, যেখানে ২০ ব্যান্ডের আরও একটি রেগুলেটরের প্রস্তাব করা হয়েছে। খাল খনন, নদী খনন, জলাধার তৈরিসহ বিভিন্ন কারিগরি দিক উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবনার গণশুনানিতে বিভিন্ন নেতিবাচক দিক ও প্রশ্ন তুলে ধরেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। এ প্রসঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধি ও গবেষক কাওসার হামিদ মুন্না মতামত প্রকাশ করে বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে বৃহৎ প্রকল্পটির প্রস্তাবনা উজান থেকে শুরু হয়ে মুহুরী রেগুলেটরে শেষ করা হয়েছে। এটি আরও দীর্ঘ করে সন্দ্বীপ চ্যানেল পর্যন্ত নেওয়া প্রয়োজন। জানতে পেরেছি উড়িরচরে একটি বৃহৎ বরাদ্দের ড্যাম তৈরির এমওইউ স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের উপকূলে ব্যাপক পলি জমার শঙ্কা রয়েছে অথবা, এর পরিণতি মডেল প্রকল্প করে দেখতে হবে। তা না হলে উজান থেকে পানি নেমে এসে সাগরে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হলে আমরা জলমগ্ন হব। একইসাথে নির্বিচারে মাটিকাটার ফলে ভূমি নিচু হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকায় ১৮৪টি খালের দৈর্ঘ্য ৫০০ কিলোমিটার উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্প প্রস্তাবনায় ২১টি খালের ৪৮ কিলোমিটার খননের কথা বলা হচ্ছে। যেহেতু প্রকল্পটি বাঁধ ছাড়াও সেচ ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে তাই সকল খাল এর আওতাভুক্ত না হলে সেচ ব্যবস্থা ব্যহত হবে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও কৃষক সেচ সুবিধা পাবে না। ছাগলাইয়া-শুভপুর প্রকল্পের আওতাধীন হলেও ফেনী নদী প্রসঙ্গে কোন পরিকল্পনা দেখা যায়নি। ফেনী নদী হতে নির্বিচারে বালু উত্তোলনে ক্ষতি সমাধানে করণীয় বলা হয়নি। তাছাড়া ভারতের সাথে চুক্তি না হওয়ায় মুহুরী কুহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর সাড়ে ৬ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী অংশে বাঁধ নির্মাণ, নদী প্রশস্তকরণ কিংবা কী উপায়ে সংস্কার হবে তা স্পষ্ট নয়।
একই প্রসঙ্গে মুহুরী আধুনিক সেচ প্রকল্পের কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দিন আহমেদ কামরান বলেন, সমীক্ষায় কৃষক সমিতির কোন বক্তব্য নেওয়া হয়নি, কৃষকের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
মতবিনিময়ে জেলা ছাত্রপ্রতিনিধি ওমর ফারুক বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ছাগলনাইয়ার শুভপুর নদীর আকার বিকৃত হয়েছে। পাশাপাশি ফুলগাজী পরশুরাম ছাগলনাইয়ার স্থানীয় জনগণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা সমাধানের ক্ষেত্রে ইসিএ তথা ইকোলজিকাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা প্রস্তাব করছি।
পানিসম্পদ গবেষণাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিইজিআইএস কর্মকর্তা নওশিন তাবাসসুম বাঁধ, সেচ
প্রকল্পের বিষয়ে পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব বিষয় তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফেনী নদীর ধারণ ক্ষমতা কমেছে এবং দ্রুত দিক পরিবর্তন হয়েছে। সোনাগাজী উপকূলে মাছের ঘেরের কারণে দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। এতে জলাধারের আয়তন কমেছে। ২০০৩ সালে ২৭০ হেক্টর মাছের ঘের থাকলেও ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩ হাজার ৪৫৪ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। ফলে উজান থেকে আসা পানি দ্রুত সরতে পারছে না।
মতবিনিময়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক শরীফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্বাঞ্চল, কুমিল্লা)।
অনলাইনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান। তিনি বলেন, বন্যানিয়ন্ত্রণে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন জরুরি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয়দের স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ বলেন, যে সমীক্ষা করা হয়েছে তা তুলে ধরার উদ্দেশ্য হল, অংশীজনের মতামত পাওয়া। সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা প্রতিফলিত হবে। অনলাইনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মো. এনায়েত উল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ফেনীর ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি রোধে বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেসব মতামত এসেছে বিবেচনায় আনা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত স্থানীয় কমিটির সাথে মতবিনিময় করার প্রয়োজন রয়েছে। উড়িরচরে প্রস্তাবিত ড্যাম তৈরি হলে ফেনী উপকূলে প্রভাব খতিয়ে দেখতে হবে। ফেনী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনরোধে সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরশুরাম পৌরসভার সাবেক
মেয়র আবু তালেব, সাংবাদিক নাজমুল হক শামীম, এনজিও প্লাস এর নির্বাহী পরিচালক জোহরা আক্তার রুমা, নদী তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষজন। কর্মশালায় জানানো হয় প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাদ পুনঃনির্মাণ ২৭৬৩ দশমিক ৩৯ কোটি, ভাঙ্গন কবলিত স্থানে নদীর তীর সংরক্ষণ ২২৫ দশমিক ৫৪ কোটি, নদীখাল জলধার পূনঃখনন ৬৪৪ দশমিক ৮৮ কোটি, পানি নিষ্কাশন কাঠামো রেগুলেটর নির্মাণ ৯৫ কোটি, হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ ৫শ কোটি, ফ্ল্যাড বাইপাস/ফিউজ নির্মাণ ২৭ দশমিক ২০ কোটি, সেচ ইন্টেল নির্মাণ সাড়ে ৬ কোটি, বিদ্যমান অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ ৭ দশমিক ৬৫ কোটি, গাছ ঝোপঝাড় দূরীকরণ ৪৫ দশমিক ৮৪ কোটি ও লুককাট ৯ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
মতবিনিময় ও কর্মশালায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন
বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকতাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী ও নদী পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন

শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’ মুক্তির অপেক্ষায়। এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির আগেই এক বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে এর অন্যতম গান ‘তু মিল যায়ে’। প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে গানটি শ্রোতাদের একাংশ দারুণভাবে পছন্দ করলেও, নেটিজেনদের বড় একটি অংশ সুর চুরির অভিযোগে সরব হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গানটির সুর পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের কালজয়ী সৃষ্টি ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’ থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে। এই বিতর্ক এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘কিং’ সিনেমার গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশ্যে আসে। গানটি শোনার পর থেকেই সংগীতপ্রেমী ও মৌসুমী ভৌমিকের ভক্তরা দাবি করতে থাকেন যে, সুরের বিন্যাস, তাল ও মেলোডি মৌসুমীর মৌলিক গানের সঙ্গে অবিশ্বাস্যভাবে মিলে যাচ্ছে। সুরের এই সাদৃশ্য কাকতালীয় নয় বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। মৌসুমীর এক অনুরাগী প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন এবং সুর চুরির অভিযোগ তুলে একটি বিস্তারিত পোস্ট করেন। সেই পোস্টের পর থেকেই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সংগীতের জগতে নিজের অনন্য শৈলীতে জায়গা করে নিয়েছেন মৌসুমী ভৌমিক। তার ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’ গানটি কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দুই বাংলার বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও নস্টালজিক একটি সৃষ্টি। সেই গানের সুর অপরিবর্তিত রেখে বা কিছুটা অদলবদল করে বলিউড সিনেমায় ব্যবহার করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুরাগীরা। তারা একে সৃজনশীলতার অভাব এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এত বড় অভিযোগের পর অবশেষে মুখ খুলেছেন স্বয়ং মৌসুমী ভৌমিক। তবে তিনি সরাসরি কোনো আইনি লড়াইয়ের কথা জানাননি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং দর্শকদের মন্তব্যের ভিত্তিতে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। মৌসুমীর এই নীরবতা বা সংযত প্রতিক্রিয়া নিয়েও ভক্তরা নানাভাবে বিশ্লেষণ করছেন। কেউ বলছেন, শিল্পী হয়তো বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন, আবার কেউ মনে করছেন তিনি বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুর চুরির এই অভিযোগ নিয়ে আলোচনার ঝড় থামার কোনো লক্ষণ নেই।

বলিউডে সুর চুরির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অতীতেও বহুবার বড় বাজেটের সিনেমার গান বিদেশি বা আঞ্চলিক কোনো গানের সুরের সঙ্গে মিলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘কিং’ সিনেমার নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বলিউড ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মতে, সুরের সাদৃশ্য অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতও হতে পারে, কিন্তু শ্রোতারা যখন সরাসরি চুরির অভিযোগ আনেন, তখন বিষয়টি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এখন দেখার বিষয়, ‘কিং’ সিনেমার নির্মাতারা কি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো সাফাই দেবেন, নাকি বিতর্ক এড়িয়ে সিনেমা মুক্তির দিকেই মনোনিবেশ করবেন। গায়িকা মৌসুমী ভৌমিকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সংগীত জগৎ ও তার অগণিত ভক্তরা।

রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪

রাজধানী ঢাকায় গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি ও অবৈধভাবে তা মজুতকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় গাড়ি থেকে বিভিন্ন দামি পার্টস সরিয়ে ফেলে তা নিজেদের হেফাজতে রেখে বিক্রি করে আসছিল এই চক্রটি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মুগদা ও সবুজবাগ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. জসিম, মো. হারুন, আলামুন হুদা ওরফে মোল্লা এবং সুলতান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এদের প্রত্যেকের বয়স চল্লিশের কোঠা থেকে ষাটের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত যন্ত্রাংশগুলো চোরাই পথে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না এবং সেগুলো কোথায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ওত পেতে থেকে এই চক্রটি সুযোগ বুঝে গাড়ির মূল্যবান পার্টস খুলে নিয়ে যেত। পরবর্তীতে এসব যন্ত্রাংশ তাদের গোপন আস্তানায় মজুত রাখা হতো। জব্দ করা যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য বেশ ভালো হওয়ায় এবং সহজে হাতবদল করা যায় বিধায় তারা এই অপরাধমূলক কার্যক্রম বেছে নেয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, গুলশান থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল এই অভিযানে অংশ নেয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না বা ঢাকা মহানগরীর অন্য কোনো এলাকায় তাদের আরও কোনো গোপন আস্তানা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

রাজধানীর গাড়ি মালিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যন্ত্রাংশ চুরির আতঙ্কে ছিলেন। পুলিশের এই সফল অভিযানে কিছুটা হলেও জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চোর চক্রের পেছনে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সিন্ডিকেট কাজ করছে, তা উন্মোচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুতই এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার খরুলিয়া লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে। গুলিতে আহত মাহমুদুল হক নামের ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় ওই এলাকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুল হক একটি মাইক্রোবাসে করে যাতায়াত করছিলেন। খরুলিয়া লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জনের একটি দল তার পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দিনের আলোতে এমন দুঃসাহসিক ও নৃশংস হামলার ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক ঠিক কী কারণে হামলার শিকার হলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক শত্রুতা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আইনের আওতায় আনতে এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এদিকে, আহত ব্যবসায়ীর স্বজনরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ব্যবসায়ীরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সর্বশেষ
শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার