খুঁজুন
, ,

পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ

রাজধানীর পল্লবী থানা প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে সংঘটিত এই ঘটনাটি এলাকায় বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, এদিন রাত সোয়া আটটার দিকে পল্লবী থানার পাশের ফ্লাইওভারের ওপর থেকে দুর্বৃত্তরা থানা লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত ককটেলটির আঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়। ঘটনার পরপরই থানা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একটি অসাধু গোষ্ঠী বা চক্র অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তবে কারা এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন এবং সম্ভাব্য হামলাকারীদের খোঁজে আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে হামলার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার রহস্য উদঘাটন করতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিভিন্ন দিক থেকে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে থানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে পুলিশ আশা করছে।

রোববারের এই ঘটনার পর থেকে পল্লবী থানা এবং এর আশেপাশের এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকেও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য যে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য বা সাধারণ মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিস্ফোরণটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে। বর্তমানে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের পথে টেসলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের পথে টেসলা

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা তাদের বহুল আলোচিত সাইবারট্রাক মডেলটির উৎপাদন বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজারে প্রত্যাশা অনুযায়ী চাহিদা না মেলায় এই বৈদ্যুতিক পিকআপ ট্রাকের উৎপাদন ব্যবস্থা গুটিয়ে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত বিক্রির নিম্নগতি এবং উৎপাদন খরচ সামাল দিতেই এমন কঠোর পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে ইলন মাস্কের এই কোম্পানি।

শিল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সাইবারট্রাকের বাজার নিয়ে টেসলা যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাড়িটির অদ্ভুত ডিজাইন এবং উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এটি যে ধরনের উন্মাদনা তৈরি করবে বলে আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন সেভাবে ঘটেনি। ফলে টেসলার কারখানায় এই মডেলটির উৎপাদন লাইন ধরে রাখা ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ছে। আগামী ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এই বিশেষ মডেলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

টেসলার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা না করা হলেও, অটোমোবাইল খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই উদ্যোগটি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ। সাইবারট্রাকের উৎপাদন লাইনটি সরিয়ে বা বন্ধ করে দিয়ে টেসলা তাদের অন্যান্য লাভজনক মডেলের দিকে মনোযোগ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বর্তমানে যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে প্রতিটি মডেলের সফলতার হার বজায় রাখা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সাইবারট্রাক বাজারে আসার পর থেকেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এর স্টেইনলেস স্টিলের কাঠামো এবং বুলেটপ্রুফ গ্লাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলেও বিক্রির পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। গত কয়েক মাসে গাড়িটির বিক্রি ধারাবাহিকভাবে নিচে নেমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কোম্পানিটি এখন নতুন কোনো মডেলের ওপর গুরুত্ব আরোপ করবে নাকি বিদ্যমান মডেলগুলোর উন্নয়নে কাজ করবে, তা নিয়ে শিল্প বোদ্ধাদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা চলছে।

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই খবরটি আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে যে, টেসলা তাদের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ থেকে সাইবারট্রাককে অনেকটা সরিয়ে আনছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও কার্যকর উপায়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের যে সময়সীমার কথা শোনা যাচ্ছে, তা টেসলার সামগ্রিক ব্যবসায়িক কাঠামোর জন্য একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আপাতত টেসলার এই পদক্ষেপের ফলে গাড়িটির বর্তমান ব্যবহারকারী এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে কোম্পানিটি গ্রাহকদের জন্য কী ধরনের বিকল্প সুবিধা দেবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সামগ্রিকভাবে এটি টেসলার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কীভাবে তারা তাদের জনপ্রিয়তাকে বজায় রেখে মুনাফার মুখ দেখবে।

বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদের তাৎপর্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদের তাৎপর্য

বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দিন যেন এক নতুন সংবাদের জন্ম দেয়। প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং যোগাযোগের সহজলভ্যতার এই যুগে কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক রূপ পরিগ্রহ করে। আজ বিশ্ব রাজনীতি কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংকট বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে অন্য মহাদেশে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই জটিল সমীকরণগুলো কেবল রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পণ্যের দাম এবং বিশ্ব নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

বৈশ্বিক রাজনীতির আকাশে প্রতিদিনই যেন নতুন মেঘ জমছে। পরাশক্তিগুলোর মধ্যে শক্তির ভারসাম্যের লড়াই এখন আর কেবল সামরিক শক্তিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি এখন প্রযুক্তিগত আধিপত্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন দখলের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ভূ-রাজনীতির এই জটিল খেলাগুলোতে কূটনীতির অদৃশ্য সুতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পর্দার আড়ালে চলা নীরব আলোচনাগুলো অনেক সময় দৃশ্যমান সংঘাতের চেয়েও বেশি প্রভাব বিস্তার করছে বিশ্ব ব্যবস্থায়। বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক জোটগুলো তাদের স্বার্থ রক্ষায় যে ধরনের কৌশল গ্রহণ করছে, তা ভবিষ্যৎ বিশ্বকাঠামোকে নতুন করে গড়ে তুলছে।

সংঘাতের আগুন যখন কোনো এক অঞ্চলে জ্বলে ওঠে, তখন তার উত্তাপ অনুভূত হয় বিশ্বজুড়ে। প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি বা সামরিক মহড়াগুলো এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো যখন এই ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে, তখন সাধারণ পাঠকের মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে—বিশ্ব কি বড় কোনো পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? আসলে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ঘটনা আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। কখনও কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শান্তির আশা জাগছে, আবার কখনও নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্থিরতা বাড়ছে। এই দ্বিমুখী স্রোত এখন বিশ্ব রাজনীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধি—এসব বিষয় এখন কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং তা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। উন্নত দেশগুলো থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র পর্যন্ত সবাই এই সংকটের আঁচ পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য নীতিগুলোর পরিবর্তন এবং মুদ্রার মানের ওঠানামা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিভিন্ন দেশের আর্থিক নীতিমালার সমন্বয় ও অসামঞ্জস্যতা নিয়ে সারাবিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আজ প্রতিটি তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংবাদ কেবল তথ্যের জোগান দেয় না, বরং তা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, পৃথিবী কোন দিকে এগোচ্ছে। আজ যারা বিশ্বনেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন, তারা বুঝতে পারছেন যে এককেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণা এখন অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বহুপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মেরুকরণ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে সচেতন পাঠক হিসেবে প্রতিটি সংবাদের পেছনের প্রেক্ষাপট অনুধাবন করা জরুরি। বিশ্বব্যাপী চলমান প্রতিটি পরিবর্তন আমাদের ভবিষ্যতের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলছে, আর সেই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা আজ সময়ের দাবি।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট: বাড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুশ্চিন্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট: বাড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুশ্চিন্তা

দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের চিত্র অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের পর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান চিত্র পর্যালোচনা করলে এক ভিন্নধর্মী সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসন সংকট নিয়ে যে শঙ্কা বা আলোচনা ছিল, তা এবার অনেকটাই উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন যে পরিমাণ আসন রয়েছে, তা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে, সামগ্রিকভাবে দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আসন সংকট নেই, বরং উল্টো চিত্র দেখা দিচ্ছে। অর্থাৎ আসন আছে কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, যা এক নতুন ধরনের শিক্ষার্থী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, উচ্চশিক্ষার এই পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে দেশের মাঝারি সারির, ছোট এবং রাজধানীর বাইরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় ধরনের বিপাকে পড়তে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে মানসম্মত শিক্ষার দাবি এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পাওয়ার আশায় শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানের বা নতুন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র টিউশন ফি-র ওপর নির্ভরশীল, তারা শিক্ষার্থী সংকটে পড়লে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।

পরিস্থিতি কেবল বেসরকারি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। যদিও শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিযোগিতা বরাবরই থাকে, তবে তুলনামূলক কম পরিচিত বা নতুন স্থাপিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এবার শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে বেগ পেতে হতে পারে। আসন খালি পড়ে থাকার এই আশঙ্কা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ধরে রাখার ক্ষেত্রেও একটি বাধা হিসেবে কাজ করবে। কারণ, ক্লাসরুমে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য ব্যাহত হয় এবং গবেষণাসহ নানা একাডেমিক কার্যক্রমে ভাটা পড়ে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দের তালিকায় এখন কেবল নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই প্রতিযোগিতায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। অবকাঠামোগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটটি একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় মানোন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ তৈরি এবং আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রবর্তন করতে পারবে না, তাদের টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়বে।

সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন একটি বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি। আসন আর শিক্ষার্থীর এই অসামঞ্জস্যতা কেবল ভর্তি মৌসুমেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদেও শিক্ষার সামগ্রিক মানে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন তাদের নিজস্ব সক্ষমতা, শিক্ষার গুণমান এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। অন্যথায়, শিক্ষার্থী সংকটের এই ঢেউ বড় সংখ্যক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ
সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের পথে টেসলা বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদের তাৎপর্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট: বাড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুশ্চিন্তা পল্লবী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু পল্লবী থানায় ককটেল হামলা: দুর্বৃত্তদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ নাগরিকের আবেদনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব নিরূপণে নতুন সুবিধা আনছে এআই চ্যাটবট ক্লড ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ চত্বর বাণিজ্যিক বিরোধ নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার বার্তা চীনের জনগণ আর স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেবে না: রুহুল কবির রিজভী