পোশাক কারখানায় কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা, কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
দীর্ঘ সময় ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষ ও টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে অবশেষে কর্মপরিবেশ ফিরে এসেছে। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন। শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ অচলবস্থার পর কলকারখানার চাকা সচল হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় শিল্প মালিক ও সংশ্লিষ্ট মহলে।
তবে কাজে ফেরার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো প্রকার শৈথিল্য দেখাতে নারাজ। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, স্বাভাবিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যদি শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতির হার এখন সন্তোষজনক এবং উৎপাদনে কোনো বড় ধরনের বাধা নেই। তবে শ্রমিকদের আবেগ বা অসন্তোষকে পুঁজি করে কেউ যদি পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ানোর চেষ্টা চালায়, তাহলে পুলিশ কোনো ছাড় দেবে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর মতো কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সাভার ও আশুলিয়া হলো দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এখানে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। গত কয়েক দিনের অস্থিরতায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল রপ্তানি খাত। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার ওপর জোর দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে, শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার যেন আর কোনো অবনতি না ঘটে, সেজন্য পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসন নিয়মিতভাবে কারখানগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]