সিউলে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে বিএনপির প্রতিনিধি দলের ঢাকা ত্যাগ
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে আয়োজিত এশিয়ার রাজনৈতিক দলসমূহের আন্তর্জাতিক সম্মেলন তথা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ বা আইসিএপিপি-এর ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। রবিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই সফর শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা এবং এশীয় অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্দেশ্যেই এই প্রতিনিধি দল সিউলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন বলে জানা গেছে। দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এই সফরটিকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তারা গত ৩ নভেম্বর রাতে সিউলের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তাদের এই সফরকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মূলত ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে আইসিএপিপি-এর এই বৃহৎ সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এশিয়ায় গণতন্ত্রের চর্চা, রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক ভূমিকা এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে এই ধরণের আন্তর্জাতিক সম্মেলন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এই ধরনের সম্মেলনগুলো একটি বড় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। আইসিএপিপি-এর মতো বৈশ্বিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। একইসাথে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং এশীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার ফলে দলগুলোর সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি পায়। বিএনপির এই প্রতিনিধি দলের সফরটি তাদের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতারই একটি অংশ। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী সাত নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলনটি চলবে। সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপি নেতাদের। সম্মেলনে মূলত এশিয়ান অঞ্চলের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নিয়ে বিএনপি প্রতিনিধিরা তাদের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধরনের সেশনগুলোতে অংশ নেওয়াটা দলীয় সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ।
সফর শেষে প্রতিনিধি দলটির ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই সফরকে দলের বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সম্মেলন নতুন পথ উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর যে পারস্পরিক সংযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রয়োজন, তা অর্জনের লক্ষ্যেই এই সম্মেলনে বিএনপির সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সিউলে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতারা তাদের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও সম্যক ধারণা লাভ করবেন, যা ভবিষ্যতে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ও কৌশল নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]