বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় মুরার রূপ নিয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। মূলত বঙ্গোপসাগর এখন যথেষ্ট উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের আকাশ মেঘলাসহ কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। সমুদ্র বন্দরসমূহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সতর্কতা অবলম্বনের অংশ হিসেবে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমান গতিপথে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রাথমিক গতিবিধি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে যে, এটি ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২ নভেম্বরের দিকে এই ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের উপকূলরেখা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ এবং এর তীব্রতার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব এবং দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর তার গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা সাগরে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোর প্রশাসনকেও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি কেবল ভারতের উপকূলের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে না, বরং এর বিস্তৃতি ও প্রভাব অঞ্চল অনুযায়ী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘূর্ণিঝড় মুরার প্রভাবে আগামী কয়েকদিন বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি উত্তাল থাকবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি দূর করতে এবং সঠিক তথ্য প্রচারের লক্ষ্যে আবহাওয়া অফিস থেকে প্রতিনিয়ত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ বা দিক পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। উপকূলের সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বুলেটিনগুলো নিয়মিত অনুসরণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় যে কোনো ধরনের গুজব থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি করা এই সংকেত পরিস্থিতি উন্নতির আগে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এবং জাহাজগুলোকে সতর্কতার সাথে নোঙর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী সংকেতের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৪ অপরাহ্ণ