ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা জরুরি: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি মনে করেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ এবং নিজের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা অপরিহার্য। শনিবার মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর আয়োজনে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উপলক্ষে একটি বিশেষ রেলি অনুষ্ঠিত হয়। রেলি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তিনি প্রতিটি পরিবারকে তাদের আঙিনা এবং বাসস্থানের চারপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানান। জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে, তাই পানির আধারগুলো ঢেকে রাখা বা নিয়মিত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকেও এই মশা নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকারি দপ্তরের অপেক্ষায় না থেকে পাড়ায় পাড়ায় এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা গেলে মশার উপদ্রব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও রোগীদের যথাযথ পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং ড্যাব-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা একযোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার কথা জানান। ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় হাসপাতালগুলোতে যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম, তাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য যে, বর্ষা পরবর্তী সময়ে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সরব উপস্থিতি এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমিয়ে আনতে নিয়মিত মশক নিধন অভিযান এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন উপস্থিত বক্তারা। প্রতিমন্ত্রী সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন