দেশজুড়ে মেধা ও বিজ্ঞানের জয়গান গাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব। বিজ্ঞানমনস্ক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উচ্চমাধ্যমিক এবং এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। রসায়ন বিষয়ের জটিল বিষয়গুলোকে সহজভাবে উপস্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বিষয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরির উদ্দেশ্যেই মূলত প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের রসায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে এই আসর বসানো হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে সেরা দশজন করে শিক্ষার্থীকে প্রতিটি কেন্দ্রে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। বিজয়ী এই শিক্ষার্থীদের হাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সনদ ও পদক তুলে দেওয়া হয়।
আঞ্চলিক পর্যায়ে যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে, তারা এখন পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায়। অলিম্পিয়াড সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক পর্বের সফল সমাপ্তির পর এবার চূড়ান্ত পর্বের দিকে নজর সবার। প্রতিযোগিতার জাতীয় বা চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ নভেম্বর। এই চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া মেধাবীরাই শেষ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আঞ্চলিক পর্বের মতো চূড়ান্ত পর্বেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও বিজ্ঞানের প্রতি তাদের ভালোবাসা একই রকম থাকবে।
মূলত রসায়ন অলিম্পিয়াড কেবল একটি প্রতিযোগিতাই নয়, এটি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের গভীরে যাওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম। পাঠ্যবইয়ের সীমাবদ্ধ গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনে রসায়নের প্রয়োগ এবং এর সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। আঞ্চলিক পর্বে যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদেরও দমে না গিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো প্রস্তুতির মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৮ নভেম্বরের চূড়ান্ত পর্বকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। আয়োজক কমিটি চূড়ান্ত পর্বের বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যাতে কোনো অসংগতি ছাড়াই পুরো আয়োজন সম্পন্ন করা যায়। দেশের ভবিষ্যতের রসায়নবিদ বা বিজ্ঞানীরা যেন এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমেই নতুন পথ খুঁজে পায়, সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড তার পথচলা অব্যাহত রেখেছে। বিজ্ঞানচর্চার এই সংস্কৃতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস হিসেবেই এই প্রতিযোগিতাকে দেখছেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা। চূড়ান্ত পর্ব শেষে বিজয়ীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এখন সকলের দৃষ্টি আগামী ২৮ নভেম্বরের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে, যখন নির্ধারিত হবে কে হবে এবারের রসায়ন অলিম্পিয়াডের সেরা প্রতিযোগী।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ