চাঁদা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি, ভাইয়ের সঙ্গে কথা না বললে ছেলেপুলে পাঠানো হবে—সাব্বির হোসেন গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় এক ব্যক্তি চাঁদা না পেলে ছেলেপুলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা দাবি করে অপরাধের শিকড় গাঁথা ছিল। সাব্বির হোসেন, ওরফে সানি, এই হুমকি ও চাঁদা সংগ্রহের পরিকল্পনা প্রকাশের পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

সাব্বির হোসেনের দাবি ছিল, “ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলো, ছেলেপুলে পাঠালে চাঁদা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি হয়ে যাবে”। তিনি একাধিক বার ফোনে এবং মুখোমুখি হুমকি দিয়ে শিকারকে টাকা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। শিকারের পরিবারে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে, হুমকির ভিত্তিতে তিনি চাঁদা না দিলে ছেলেপুলে পাঠিয়ে শারীরিক ক্ষতি করার কথা উল্লেখ করেন।

পুলিশের জানামতে, শিকারের পরিবারে হুমকি পৌঁছানোর পর তারা অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানায়। তদন্তের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার রাতের দিকে, নারায়ণগঞ্জের এক ঘরে সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময়ে তার সঙ্গে কোনো অস্ত্র বা সহায়ক সামগ্রী পাওয়া যায়নি, তবে হুমকি জানাতে ব্যবহৃত ফোন রেকর্ড এবং চাঁদা সংগ্রহের নথি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের মুখ্য কর্মকর্তা জানান, “অভিযানটি শিকারের পরিবার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত হয়। হুমকি ও চাঁদা সংগ্রহের প্রমাণ স্পষ্ট, তাই দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ ধরনের হুমকি অপরাধের শিকড়ে পৌঁছাতে পারে, তাই আমরা এ ধরনের মামলায় শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখি।”

শিকারের পরিবারে এই গ্রেফতার নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে। তারা বলেছে, “সাব্বিরের হুমকি আমাদেরকে ভয় দেখিয়েছিল, কিন্তু এখন তার গ্রেফতার আমাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে।” তারা একই সঙ্গে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের হুমকি থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, হুমকি দিয়ে চাঁদা সংগ্রহ করা ‘ধমকপ্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ’ এবং ‘অবৈধ চাঁদা সংগ্রহ’ হিসেবে গৃহীত হবে। সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে সাব্বির হোসেনকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে পুলিশ ও আইনি বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে চাঁদা ও হুমকি ভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে সতর্কতা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। পুলিশও ভবিষ্যতে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন