যশোর বোর্ডে এইচএসসির ফলাফলে বড় ধস, একে ‘সঠিক মূল্যায়ন’ বলছে শিক্ষা বোর্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এবারই প্রথম বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে ফলাফলের নিম্নগতি নিয়ে অনেক মহলেই প্রশ্ন উঠছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি গত বছরের তুলনায় বেশ খানিকটা কম। বিগত বছরে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা শিক্ষা সচেতন মহলে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও বড় ধরনের টান পড়েছে। এ বছর যশোর বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মোট ৩ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী। অথচ গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। অর্থাৎ, মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমে এসেছে। এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয় যে, কেবল গড় পাসের হার নয়, বরং উচ্চতর মান অর্জনের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, ধারাবাহিকভাবে এমন ফলাফল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে কিছুটা বাধা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রতিযোগিতায় এই ফলাফল নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফল বিপর্যয়ের এই চিত্রে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন। তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের কণ্ঠে। ফল নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমালোচনা বা একে ‘ বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বোর্ড প্রশাসন। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো ধরনের শিথিলতা বা পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। বরং শিক্ষার্থীদের খাতাগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবং বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, এই ফলাফল কোনো অঘটন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন।

বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পাঠ্যক্রমে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষার্থীরা হয়তো কিছুটা হিমশিম খাচ্ছে। সঠিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কারণেই হয়তো পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় এই পরিবর্তন এসেছে। তারা মনে করছেন, শিক্ষার্থীরা যদি তাদের পড়াশোনার ধরনে পরিবর্তন না আনে এবং মানসম্মত শিক্ষার দিকে মনোযোগ না দেয়, তবে আগামী দিনগুলোতেও ফলাফল সন্তোষজনক নাও হতে পারে।

তবে বোর্ডের এই দাবি নিয়ে অভিভাবক মহলে এখনো নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকের মতে, শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন বা পরীক্ষার কঠিন প্রস্তুতির বিষয়টি মেনে নেওয়া গেলেও, হঠাৎ করে এতটা নিম্নমুখী ফলাফল কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এর পেছনে খাতা দেখার প্রক্রিয়ায় কোনো কঠোরতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের মনে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। আপাতত শিক্ষার্থীদের এখন এই ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির দিকে এগোতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমেই কেবলমাত্র যশোর বোর্ডের এই ফলাফল পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব এবং এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন