যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের একটি স্পর্শকাতর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, পলাতক এই দুই ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে সাহায্যকারীকে দশ হাজার পাউন্ডের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলার তদন্তে নতুন গতি আনতে পুলিশ এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালে পূর্ব লন্ডনের একটি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, সে সময় এক ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দারা অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চালিয়ে আসছিলেন। ব্যাপক তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তারা দুই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গিরদার এবং ৩১ বছর বয়সী শওকত।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, অপরাধের ঘটনার পরপরই এই দুই ব্যক্তি লন্ডনের অবস্থান থেকে সটকে পড়েন। গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে যে, তারা কেবল যুক্তরাজ্যই ছাড়েননি, বরং ইতিমধ্যে বাংলাদেশসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার আশায় পুলিশ এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সহযোগিতা কামনা করছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধীদের বিচারিক কাঠামোর আওতায় আনার জন্য তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অভিযুক্তরা যেন কোনোভাবেই আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়, সেজন্যই জনসাধারণের কাছে এই বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য পুলিশের বিশ্বাস, এই ঘোষণা সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করবে এবং তাদের কাছে থাকা কোনো তথ্য যদি তদন্তে সাহায্য করে, তবে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা সহজতর হবে।
পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে লন্ডনের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সুনাম ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযান অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো ব্যক্তি যদি অভিযুক্তদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেন, তবে তিনি পুলিশের দেওয়া ঘোষিত এই আর্থিক পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন।
বর্তমানে মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল এই মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা অভিযুক্তদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অপরাধী যেই হোক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক ব্যক্তিদের ছবি এবং পরিচয় ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে যাতে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে কেউ তাদের দেখে থাকলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে মামলার জট দ্রুত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ