ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্টে প্রথম দিনেই স্পিকার অপসারণের পরিকল্পনা বিরোধীদের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ১০ নভেম্বর দেশটির নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই দিনটি একদিকে যেমন নতুন নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের শপথ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত, অন্যদিকে সেটিই হতে যাচ্ছে দেশটির ক্ষমতার লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংকের হিসাব অনুযায়ী, পার্লামেন্টের প্রথম দিনেই স্পিকার অপসারণের লক্ষ্যে একটি বড় ধরনের জোট গড়ে তুলেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলো। চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই বিরোধীদের সাথে সুর মিলিয়ে স্পিকারকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েলের আরব দলগুলোও।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও পার্লামেন্টের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে তার বিরোধীপক্ষ পার্লামেন্টের কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপ হিসেবে তারা বর্তমান স্পিকারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর দিনটিতেই এই প্রস্তাব আনার জন্য বিরোধী শিবিরগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পার্লামেন্টে এই ধরণের পদক্ষেপের অর্থ হলো শুরু থেকেই বর্তমান সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করা। স্পিকার পদটি সাধারণত অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং পার্লামেন্টের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, যদি প্রথম দিনেই স্পিকার অপসারণের মতো বড় কোনো সিদ্ধান্তে তারা সফল হতে পারে, তবে তা সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বা সরকার পরিচালনায় নেতানিয়াহু জোটের জন্য বড় একটি ধাক্কা হবে। তবে এই পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যদের ভোটাভুটির ওপর।

বিশেষ করে আরব দলগুলোর এই বিশেষ অবস্থানে যুক্ত হওয়া ইসরায়েলের রাজনীতির মেরুকরণে নতুন সমীকরণ যোগ করেছে। সাধারণত ইসরায়েলের ডানপন্থী এবং বামপন্থী বা আরব দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক দূরত্ব অনেক বেশি থাকে। কিন্তু এই মুহূর্তে স্পিকার অপসারণের মতো একটি সাধারণ লক্ষ্যে তারা যে এক কাতারে এসেছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। এটি স্পষ্ট করে যে, ক্ষমতার অংকে টিকে থাকতে বা প্রতিপক্ষকে কাবু করতে দলগুলো তাদের পুরনো দলাদলি বা আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে এসে কৌশলগত সমঝোতায় যেতে দ্বিধা করছে না।

আগামী ১০ নভেম্বরের সেই অধিবেশনে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে। একদিকে নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণ, যা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ, অন্যদিকে স্পিকার অপসারণের নোটিশ ঘিরে উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট একটি অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকলেও, পার্লামেন্টের কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ক্ষমতার এই লড়াই দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, নতুন পার্লামেন্ট বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাধ্যমেই তার পথচলা শুরু করতে চলেছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন