গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে রবিবার থেকে কার্যকর হবে নতুন বোর্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এবং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে এই বোর্ডের গঠনমূলক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে শুক্রবার রাতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই অগ্রগতির কথা জানান। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে নতুন এই মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী রবিবার থেকেই তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে।

বৈঠকে মূলত তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বর্তমান বাস্তব অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা মন্ত্রীর কাছে শ্রমিকদের জীবনধারণের ব্যয় ও মজুরি কাঠামোর অসামঞ্জস্যতার বিষয়টি তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের পথ প্রশস্ত হবে।

মজুরি বোর্ড গঠনের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য আবাসন ও বাড়িভাড়া নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান সময়ে শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা শ্রমিকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী শ্রমিক প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিল্পাঞ্চলে যেন কোনোভাবেই অযৌক্তিকভাবে বাড়িভাড়া বাড়ানো না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য যে, গার্মেন্টস শিল্প দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের সাথে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত। সময়ের প্রয়োজনে বারবার মজুরি কাঠামো পরিবর্তন করতে হয় যাতে শ্রমিকদের জীবনমান বজায় থাকে এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতাও অক্ষুণ্ণ থাকে। সরকার আশা করছে, রবিবার থেকে কার্যক্রম শুরু হতে যাওয়া এই নতুন মজুরি বোর্ড শ্রমিক ও মালিক উভয়ের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান নিয়ে আসবে। বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। এরপর সরকারের অনুমোদনের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে।

মজুরি বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বলছেন, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, মজুরি বোর্ড যেন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং প্রকৃত অর্থে শ্রমিকদের বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে মজুরি নির্ধারণ করে। শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, মজুরি বোর্ডে সরকার, মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। আগামী রবিবারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বোর্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং তাদের কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন