রাজধানীর গুলশান এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে মো. জীবন মিয়া নামের ছাব্বিশ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান মডেল থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ টহল চলাকালীন অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে। তার কাছ থেকে একটি ধারালো চাকু জব্দ করা হয়েছে, যা দিয়ে সে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতীয়মান হয়েছে। ঘটনাটি গুলশান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির অংশ হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুলশান মডেল থানার একটি টিম নিয়মিত রাত্রিকালীন টহলের দায়িত্বে ছিল। এই টহল চলাকালীন পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, গুলশান-১ এলাকায় একটি নির্জন ও খালি জায়গা ব্যবহার করে কতিপয় দুষ্কৃতকারী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ তাকে ঘিরে ফেলে এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছে থাকা একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ডাকাতির প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
এই গ্রেফতারের বিষয়টি ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন এই অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, রাজধানীর নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সবসময় সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে গুলশানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং কূটনৈতিক জোনগুলোতে অপরাধীরা যাতে কোনো ধরনের সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। অপরাধ ঘটার আগেই অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা পুলিশের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য, যা এই অভিযানের মাধ্যমে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতারকৃত মো. জীবন মিয়াকে গুলশান থানায় নিয়ে আসা হয় এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধ আইন অনুযায়ী, কোনো বড় ধরনের অপরাধ সংঘটনের জন্য পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি গ্রহণ করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। পুলিশের দাবি, অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে সে এর আগেও কোনো অপরাধে জড়িত ছিল কি না বা তার সাথে আরও কেউ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে গুলশানের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন।
ঢাকায় প্রতিনিয়ত অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং পুলিশের সক্রিয় টহল অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জনশূন্য স্থান বা সন্ধ্যার পর যেসব এলাকায় লোকসমাগম কম থাকে, সেসব জায়গায় অপরাধীরা আস্তানা গড়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বাহিনীর মতে, নাগরিকদের সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে তথ্য প্রদান করলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। এবারের অভিযানটি সেই সচেতনতামূলক বার্তারই প্রতিফলন। গুলশানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অশুভ তৎপরতা প্রতিহত করতে পুলিশ যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এই গ্রেফতার তারই একটি উদাহরণ।
গ্রেফতারকৃত যুবকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের অপরাধের ধরণ এবং তার সংযোগ বা গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের তথ্যের জন্য তাকে আরও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত রাখতে এই ধরনের কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ডিএমপি আশ্বস্ত করেছে। জননিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এই নিয়মিত প্রচেষ্টা গুলশান এলাকাকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৫ পূর্বাহ্ণ