এমপি আজিজের দলীয় ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধায় নাটোর জেলা বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলীয় পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশা। দীর্ঘ আট ঘণ্টা ধরে চলা এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরও তার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে নাটোর জেলা বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য আয়োজিত এই সভায় এমপি আজিজের পদ থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘায়িত হলেও চূড়ান্ত কোনো ফয়সালা হয়নি। শেষ পর্যন্ত জেলা পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, এই জটিল সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটিই দিতে পারে।

শুক্রবার বিকেলে নাটোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই বর্ধিত সভায় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি শুরু হয়েছিল দুপুরের দিকে এবং চলে রাত পর্যন্ত। উপস্থিত নেতাদের অধিকাংশই এমপি আজিজের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কিন্তু বিভিন্ন মতাদর্শ ও অবস্থানের কারণে জেলা নেতারা নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ সময়ের এই বৈঠকের পর কোনো ঘোষণা ছাড়াই সভা শেষ করতে হয়। সভার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমপি আবদুল আজিজ নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই পদে থাকা কতটা যৌক্তিক বা দলের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে, তা নিয়ে জেলা পর্যায়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। কোনো পক্ষই এককভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিষয়টি কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, জেলা বিএনপি থেকে একটি বিস্তারিত সুপারিশ কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাটোর-৪ আসনটি বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আবদুল আজিজের ভূমিকা ও অবস্থান দলের ভেতরে-বাইরে বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় তার দলীয় পদ নিয়ে এই সংকট স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। তবে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন। তাদের ধারণা, কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে তা-ই দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, বৈঠকে কি কি বিষয়ে বিতর্ক হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং জেলা পর্যায়ে তার সাম্প্রতিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সভায় উপস্থিত সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও এমপি আজিজের ব্যাপারে তারা কোনো একক দায়ভার নিতে রাজি হননি। যে কারণে দীর্ঘ আট ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

জেলা বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দলের গঠনতন্ত্র এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকেই এমপি আজিজের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেলা কমিটি মূলত একটি সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছে এবং কোনো সিদ্ধান্তই যেন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করে, সেটি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা না আসা পর্যন্ত এমপি আজিজের বর্তমান পদ ও মর্যাদা অপরিবর্তিত থাকবে কি না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি জেলা নেতারা।

আগামী দিনগুলোতে নাটোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে এবং এমপি আবদুল আজিজের বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান কী হবে, তা এখন স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত আসা প্রয়োজন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি সবদিক বিবেচনা করেই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে। সব মিলিয়ে নাটোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটি থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সবার নজর এখন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন