খুলনা রেঞ্জে শুদ্ধি অভিযান: ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:১৪ অপরাহ্ণ

খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রেঞ্জভুক্ত বিভিন্ন থানা ও প্রশাসনিক ইউনিটে কর্মরত ২৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠলে বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে তাদের নিজ কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে এই ক্লোজড ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।

তালিকায় থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পদমর্যাদার বেশ বৈচিত্র্য রয়েছে। জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ের কনস্টেবল, বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য থেকে শুরু করে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই প্রত্যাহার তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বাহিনীর অভ্যন্তরে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ সদর দপ্তরের কঠোর নির্দেশনার আলোকে খুলনা রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রগুলো বলছে, বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে, এটি তারই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। এর আগেও বিভিন্ন সময় খুলনা রেঞ্জের আওতায় বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এবার একসঙ্গে এত সংখ্যক সদস্যকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি সাধারণ ঘটনা নয়। কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ বা দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতি রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ এই ধরনের বড় রদবদল বা প্রত্যাহার প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হলেও এটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলায় অপরাধ দমনে পুলিশ যেন আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি যেন স্বচ্ছ থাকে, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে। প্রত্যাহারকৃত সদস্যদের ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ ও বিভাগীয় তদন্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যাতে রেঞ্জের সামগ্রিক কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা তৈরি না হয়।

সাধারণত এ ধরনের সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়। প্রশাসনিকভাবে এই ক্লোজড হওয়া মানেই সাময়িক কর্মবিরতি নয়, বরং তাদের পুলিশের রিজার্ভ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে বিভাগীয় মামলা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। খুলনা রেঞ্জের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। যারা নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

খুলনা অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখতে এই শুদ্ধি অভিযান জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যাহারকৃত ২৮ সদস্যের কার কার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী কী অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস ব্রিফিং বা বিবৃতি দেওয়া হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এই নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যাহারকৃতদের নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে খুলনা রেঞ্জে পুলিশের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন