সালমান শাহ-শাবনূরের পর এবার নতুন রূপে সাইমন-মাহির আনন্দ অশ্রু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ

নব্বই দশকের ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল এবং দর্শকপ্রিয় একটি নাম আনন্দ অশ্রু। প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। শিবলি সাদিক পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। মুক্তির সেই সময় থেকে আজ অবধি ছবিটির জনপ্রিয়তা এতটুকুও কমেনি, বরং সময়ের সাথে সাথে তা যেন দর্শকদের কাছে এক নস্টালজিয়ায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ছবির গানগুলো এখনো সমানতালে জনপ্রিয়, যা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।

সেই জনপ্রিয়তাকে সঙ্গী করে এবার নতুন আয়োজনে পর্দায় আসছে আনন্দ অশ্রু। তবে এবার আর সালমান শাহ বা শাবনূর নন, বরং নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় দুই তারকা সাইমন সাদিক এবং মাহিয়া মাহিকে দেখা যাবে এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে। দীর্ঘ সময় পার হলেও ছবির নাম ও গল্পের আবেদনকে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে নতুন করে তুলে ধরতেই নির্মাতারা একই শিরোনামে নতুন সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই নতুন সিনেমাটির পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। যিনি এর আগে দুই নয়নের আলোসহ বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে দক্ষ নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সিনেমাটি নিয়ে ঢালিউড পাড়ায় এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা। বিশেষ করে দুই সময়ের জনপ্রিয় দুই জুটির এই তুলনাটি ভক্তদের মনে এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। একদিকে নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন তারকাদের রসায়ন দেখার আগ্রহ—সব মিলিয়ে সিনেমাটি নিয়ে প্রত্যাশার পারদ বেশ চড়াই। নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক জানিয়েছেন, মূল গল্পের আবেগ ও দর্শনের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই বর্তমান সময়ের আবহে চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। যাতে করে নবীন ও প্রবীণ উভয় প্রজন্মের দর্শকরাই ছবিটির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেন।

মাহিয়া মাহি এবং সাইমন সাদিক বর্তমানে ঢালিউডের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত মুখ। তাদের জুটির রসায়ন অতীতেও অনেক ছবিতে সমাদৃত হয়েছে। এবার আনন্দ অশ্রু-এর মতো একটি কালজয়ী নাম তাদের কাঁধে আসায় তারা বেশ সতর্ক এবং একইসাথে উচ্ছ্বসিত। শুটিং এবং চরিত্রের প্রস্তুতির বিষয়ে মাহিয়া মাহি জানিয়েছেন, একটি ঐতিহাসিক সিনেমার নাম ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে তারা তাদের সেরাটা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন যাতে দর্শকদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার প্রতি তারা সুবিচার করতে পারেন।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো জনপ্রিয় সিনেমার নামে নতুন ছবি নির্মাণের চল বিশ্বজুড়েই রয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রেও এমন প্রচেষ্টা নতুন নয়। তবে আনন্দ অশ্রু-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন, কারণ এই সিনেমাটি অনেকের আবেগের সাথে জড়িয়ে আছে। তাই দর্শকপ্রিয়তার পরীক্ষায় সাইমন ও মাহি কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সিনেমাটির নির্মাণকাজ ও মুক্তির তারিখ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা খুব শীঘ্রই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই নতুন উদ্যোগ কি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে, নাকি মূল সিনেমার অমর্যাদা হবে—সে উত্তর পেতে দর্শকদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে ঢালিউডের বড় পর্দায় আবারও আনন্দ অশ্রু ফিরে আসা নিশ্চিতভাবেই সিনেমার বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন