যাত্রাবাড়ীতে এসআরবির অভিযানকালে তরুণের মৃত্যু, বাড়ছে উত্তজনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ধলপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এসআরবির একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় সেখানে মারুফ ওরফে দুখু মিয়া নামে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং ওই তরুণ কীভাবে এবং কাদের গুলিতে প্রাণ হারালেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা।

প্রাথমিক তথ্যানুসারে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় এসআরবি সদস্যরা তাদের পূর্বনির্ধারিত একটি অভিযান পরিচালনা করতে যান। অভিযানের এক পর্যায়ে সেখানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং এতে মারুফ নামের ওই তরুণ গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, অভিযানের সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে অকারণে বা অসতর্কতায় গুলির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অভিযানে অংশগ্রহণকারী এসআরবি সদস্যদের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ বা গুলির উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হতে থাকেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ধলপুর এলাকার পরিবেশ এখন থমথমে। মারুফের মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে সব মহল থেকে। তরুণ মারুফের স্বজনদের দাবি, নিছক অভিযানের নামে যে এভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে তা মেনে নেওয়া কঠিন। তারা ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন যাতে প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। তবে এই মুহূর্তে গুলির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও, ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর বয়ান বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনের জন্য যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তা বলয় কতটা জোরদার ছিল এবং অভিযানের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। মারুফ ওরফে দুখু মিয়ার মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এলাকাবাসী এখন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকাটিতে এখন অতিরিক্ত সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন