যশোরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা ও দফতরি গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এক ভয়াবহ ও ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন এখনো পলাতক থাকলেও পুলিশ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও দফতরিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনায় সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী। ঘটনার দিন স্কুল চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ভেতরেই সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জড়িতদের শাস্তির দাবি তুলেছেন। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন আত্মগোপনে চলে গেছেন, তাকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নেমেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তার দায়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জুলিয়া আফরিন এবং বিদ্যালয়ের দফতরি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত বুধবার রাতে নওয়াপাড়া বাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার তাদের ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল পদে থেকেও প্রধান শিক্ষিকা ও দফতরি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিংবা তারা এই অনৈতিক কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো একটি নিরাপদ স্থানে একজন শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অভয়নগর থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রধান শিক্ষিকা ও দফতরিকে গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্তের পথ প্রশস্ত হয়েছে। ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন এবং পলাতক সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের জন্য ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে।

শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। একইসাথে, ওই বিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন অভিভাবকরা। তারা মনে করছেন, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যাতে এমন ঘটনা আর কখনো না ঘটে, সেজন্য নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ আমলে নিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় তাকে খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন