কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, হতাশ রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ অপরাহ্ণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের পরপরই আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন আদালতের রায়ের বিষয়ে নিজের অসন্তোষ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এই আলোচিত মামলার রায় প্রদান করেন। মামলায় অভিযুক্ত হানিফসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেন। রায়ের পরই আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেন, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় কাজ করলেও বর্তমান রায়ে তিনি হতাশ। তিনি জানান, আদালতের কার্যক্রমে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে যে দণ্ডাদেশ এসেছে তা তার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তিনি গণমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তিনি এই মামলায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে রায়ের এই সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল। এতে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আজ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আপাতত রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর এই মন্তব্যটি আইনি অঙ্গনে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এই কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, দেশের আলোচিত এই মামলার রায় ন্যায়বিচারের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তবে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের হতাশা প্রকাশের বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের গুরুতর মামলায় রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়ে থাকে। আগামী দিনগুলোতে আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়টি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।

ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণার পর এখন পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। আদালতের এই রায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিচারের কাঠগড়ায় অভিযুক্তদের দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে। কুষ্টিয়ার এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারবর্গও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। তবে সব মিলিয়ে এই মামলার রায় এবং তা নিয়ে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া দেশের বিচারিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন