দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকটি স্পর্শ করার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের কর্মযজ্ঞ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটম থেকে প্রাপ্ত তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো জ্বালানি লোডিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখন জোরেশোরে শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই জ্বালানি চালানটি রাশিয়ার সাইবেরিয়ার নাভআসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের সব নিয়ম মেনে বিশেষ কার্গো বিমানের মাধ্যমে এই জ্বালানি বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। রূপপুর প্রকল্পের জন্য এই জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রিঅ্যাক্টরের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মূল উপাদান। দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি শুরু হওয়া মানে হলো প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জ্বালানি লোডিং একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল প্রক্রিয়া। এটি সম্পন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার গাইডলাইন এবং বিশেষজ্ঞ দলের নিবিড় তদারকি বজায় রাখা হয়। রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় তৈরি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথম ইউনিটের মতোই দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রেও জ্বালানি লোডিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় রসাটমের বিশেষজ্ঞ দল সরাসরি তত্ত্বাবধান করছে। বিশেষ এই জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো রিঅ্যাক্টরের কোর অংশে বসানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাকা সচল করার পথ প্রশস্ত হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের সফল কার্যক্রম শুরুর পর দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হওয়াটা প্রকল্পের সামগ্রিক সফলতার ইঙ্গিত দেয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করল। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে যাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও অপারেশনাল কাজ কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সম্পন্ন হতে পারে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি কেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোর এক অনন্য প্রতীক। দুই ইউনিট বিশিষ্ট এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণমাত্রায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ব্যাপক পরিমাণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। জ্বালানি আসার ফলে এখন রিঅ্যাক্টর বিল্ডিংয়ের ভেতরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লোডিং-এর আনুষঙ্গিক কারিগরি কাজগুলো গতি পাবে। স্থানীয় প্রকৌশলী ও রাশিয়ার কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এখন লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর ঘটনাটি তাই সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক খবর। সব পর্যায়ের নিরাপত্তা যাচাই শেষে ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই রিঅ্যাক্টরের ভেতর জ্বালানি স্থাপনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:৫৮ অপরাহ্ণ