চব্বিশের জুলাই মাসে সংঘটিত গণআন্দোলন চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর ও হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় সংঘটিত পৃথক দুটি হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলো এখন আইনি পর্যালোচনার পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জুলাই মাসের উত্তাল দিনগুলোতে দেশজুড়ে যে নজিরবিহীন সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, লক্ষ্মীপুরে পাঁচজন এবং বানিয়াচংয়ে আটজন নিহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে দুটি আলাদা মিস কেইস বা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে হাতে পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদনগুলো তৈরির ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, আলামত সংগ্রহ এবং অপরাধের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ যাচাই-বাছাইয়ের পর এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো এখন সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রসিকিউশন উইং কর্তৃক পর্যালোচনা করা হবে।
গণআন্দোলনের সময় সারা দেশে সংঘটিত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তৎপর রয়েছে। এই দুটি ঘটনায় কতজন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে বা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা না হলেও, প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে যে, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তদন্তকাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই মাসের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে যারা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করাই বর্তমান লক্ষ্য।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকা সাধারণ মানুষ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে যে, প্রতিবেদনগুলো হাতে পাওয়ার পর এখন অভিযোগপত্র বা চার্জশিট গঠনের কাজ শুরু হবে। প্রসিকিউশন পক্ষ এই নথিপত্রগুলো যাচাই করে দেখবেন যে, আইন অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা সম্ভব কি না। কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের গণআন্দোলন দমাতে তৎকালীন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। লক্ষ্মীপুর ও বানিয়াচংয়ের ঘটনা দুটি সেই চরম অমানবিক আচরণেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া এখন নতুন মোড় নিল। আইন ও আদালত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে, মামলার পরবর্তী শুনানিগুলোতে অপরাধীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী কার্যক্রমের দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:০০ অপরাহ্ণ