লক্ষ্মীপুরে হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনার মূল অভিযুক্তকে অবশেষে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান শাহেদকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা এই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই মামলার তদন্তে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে সদর উপজেলার উত্তর স্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ১৯ বছর বয়সী আব্দুর রহমান শাহেদ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে ঘটনার পর থেকেই তার অবস্থান নিশ্চিত হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালিয়ে আসছিল। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে ধরতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য যে, ভুক্তভোগী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল হোসেনের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে ঢুকে প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে মারধরের ঘটনাটি কেবল নিয়ম-শৃঙ্খলার পরিপন্থী নয়, বরং এটি চিকিৎসা সেবার পরিবেশে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। মামলার এজাহারে আব্দুর রহমান শাহেদের নাম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসা বা অন্য কোনো কাজে অবস্থানকালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল হোসেনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করা হয়, যা রোগীদের নিরাপত্তা ও হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। এই অনভিপ্রেত ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। স্থানীয়রা অবিলম্বে অপরাধীর বিচার দাবি করে আসছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই তারা অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে মাঠে নামে।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত শাহেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের এই অভিযানে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড কমে আসবে।

হাসপাতালে মারধরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। আগামী দিনে এই মামলায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, গ্রেফতারের খবরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তি যথাযথ সাজা পাবে এবং ভবিষ্যতে হাসপাতালের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর ঘটবে না। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধীকে দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করতে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন