জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অংশ হিসেবে এ সফরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় জাপানের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
জাপান সফরকালে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রফতানি খাতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়নে জাপানের কারিগরি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন বা জেবিআইসির (JBIC) একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ঢাকায় স্থাপনের জন্য জোরালো প্রস্তাব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জেবিআইসির গভর্নর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা কার্যালয় স্থাপনের এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে জেবিআইসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপিত হলে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশে বড় আকারের অবকাঠামো ও শিল্প প্রকল্পে জাপানের অর্থায়ন আরও সহজতর হবে। প্রধানমন্ত্রী তার আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, জাপানি প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের মান বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরি হবে।
জেটরো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত পোষণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং জাপানি উদ্যোক্তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। উভয় পক্ষই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক তৈরির বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাপানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এসব বৈঠক বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলো একটি মাইলফলক হতে পারে। সরকার আশা করছে, অদূর ভবিষ্যতে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে, যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ অপরাহ্ণ