গাজীপুর মহানগরীতে কর্মস্থল থেকে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে এক পোশাকশ্রমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা। মঙ্গলবার রাতে নগরীর গাছা থানার বড়বাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম কার্তিক (৩৫)। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং কর্মদিবস শেষে রাতে পায়ে হেঁটেই নিজের গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাতে কারখানায় কাজ শেষ করে কার্তিক যখন বড়বাড়ি এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একদল ছিনতাইকারী তাকে ঘিরে ফেলে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী বা পুলিশের ভাষ্যমতে, ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ও টাকা পয়সা দাবি করে। কার্তিক তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এবং ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করতে গেলে তারা তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
কার্তিকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মূলত তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, বড়বাড়ি এলাকাটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় রাতে প্রচুর শ্রমিকের যাতায়াত থাকে। অনেক সময় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে ও নিরাপত্তাকর্মীর টহলের অভাবেই এসব অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশের টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গাছা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আশেপাশের এলাকায় থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে খুনিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত কার্তিকের সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন কার্তিক। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ডিউটি শেষ করে নিজের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এভাবে প্রাণ দিতে হবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে তার পরিবারে। স্বজনরা দাবি করেছেন, অবিলম্বে খুনিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা কি না অথবা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। তবে প্রাথমিকভাবে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। অপরাধী যেই হোক, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের মুখোমুখি করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে এলাকাটিতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ অপরাহ্ণ