মেধা অন্বেষণে মেতে উঠল দুই শতাধিক শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ অপরাহ্ণ

জ্ঞানের আলোয় নিজেকে আলোকিত করার প্রত্যয়ে মুখর হয়ে উঠেছিল প্রতিযোগিতার প্রাঙ্গণ। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পদচারণায় পুরো এলাকাটি হয়ে উঠেছিল এক মিলনমেলায়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও মেধার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল এক বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতার। যেখানে অংশ নেয় ২৮টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। পুরো আয়োজনটি সাজানো হয়েছিল বেশ সুশৃঙ্খলভাবে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

ভোরের স্নিগ্ধতায় জাতীয় সংগীতের সুরের মূর্ছনায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এই জ্ঞানের লড়াই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার সময় পুরো পরিবেশটি হয়ে ওঠে দেশপ্রেমের এক অনন্য সাক্ষী। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা করার সক্ষমতা যাচাই করাই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও।

প্রতিযোগিতাটি সাজানো হয়েছিল বহুনির্বাচনী পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে। তবে শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণিভেদে এটিকে তিনটি আলাদা গ্রুপে বিভক্ত করা হয়, যাতে প্রতিযোগিতায় সমতা বজায় থাকে। ‘ক’ গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত ছিল চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ‘খ’ গ্রুপে অংশ নেয় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। আর সবশেষ ‘গ’ গ্রুপে লড়াই করেছে নবম ও দশম শ্রেণির প্রতিযোগীরা। প্রতিটি গ্রুপের জন্য ছিল ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র, যা তাদের মেধার স্তর অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছিল।

পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ছিল এক ধরনের উত্তেজনা এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। হলরুমের ভেতর যখন পরীক্ষা চলছিল, তখন অভিভাবকরা বাইরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অনেকের অভিভাবক জানালেন, বর্তমান সময়ের এই ডিজিটাল যুগে এ ধরনের বুদ্ধিভিত্তিক প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। এটি শিশুদের কেবল পাঠ্যবইয়ের চাপ থেকে মুক্তই করে না, বরং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতেও সহায়তা করে।

পুরো প্রতিযোগিতার তত্ত্বাবধানে ছিলেন একঝাঁক অভিজ্ঞ শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবক। প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। বহুনির্বাচনী প্রশ্নের ধরন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যা সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিষয়াবলি এবং যুক্তিবোধের ওপরও জোর দেয়। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৮টি স্কুলের অংশগ্রহণে এমন সাড়া পাওয়াটা তাদের উৎসাহিত করেছে। তারা ভবিষ্যতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান এবং আরও বড় পরিসরে এই মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন। প্রতিযোগিতার শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। হার-জিতের চেয়েও এই অংশগ্রহণ যে তাদের জন্য অনেক বড় শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের কথাতেই স্পষ্ট ছিল। সবশেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে এই মেধা উৎসবের। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পথচলায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন