জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। যদিও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ক্রমান্বয়ে উন্নতির দাবি করছে কর্তৃপক্ষ, তবুও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি কমছে না। সব বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি সচল না হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বা পিজিসিবি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতির সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্টরা। গ্রিডে বড় ধরনের বিভ্রাট ঘটার পর থেকেই সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কাজ চলছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে না আসায় এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়ায় লোডশেডিং தவிர்க்க যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিতরণকারী সংস্থাগুলো।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্রিড বিপর্যয়ের পর থেকেই বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি ঘটছে। লোডশেডিংয়ের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে এবং জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং যতটুকু সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রিড বিপর্যয়ের মতো বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত করতে হয়। প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব প্রক্রিয়া থাকে এবং হুট করে সব কেন্দ্র চালু করা কারিগরিভাবে জটিল। এ কারণেই সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং ছোটখাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ বারবার আশ্বাস দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং খুব শিগগিরই সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল হবে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সব বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে ফিরে এলে লোডশেডিংয়ের এই চিত্র দ্রুত বদলে যাবে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় গ্রাহকদের আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানিগুলো বলেছে, জাতীয় গ্রিড পুনর্গঠনের কাজ চলমান থাকায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতের সাথে জড়িতরা বলছেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি বিপর্যয় ছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে লোডশেডিংয়ের এই সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাহকদের সহযোগিতা ও ধৈর্য প্রত্যাশা করছেন তারা। বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করছে, পরিস্থিতির উন্নতি করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুতই জনজীবন স্বাভাবিক হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ