প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মূলত জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে এই সমালোচনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারেক রহমান। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত বার্তা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া সেই পোস্টে তারেক রহমান তার জীবনের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তাকে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা এবং একপর্যায়ে আটকের মতো ঘটনাও তার জীবনে ঘটেছে। তার দাবি, তিনি নানা সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং গুম হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তবুও তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
তারেক রহমান তার পোস্টে দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় এই সফরে যাওয়াটা তার জন্য একটি সম্মানজনক বিষয় ছিল। কিন্তু এই বিষয়টি জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মীরা সহজভাবে নিতে পারছে না। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, আমার এই রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটাও তারা সহ্য করতে পারছে না। কেন তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ, সে বিষয়টি পরিষ্কার। তার ভাষ্যমতে, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় তাকে এখন পরিকল্পিতভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিজের পোস্টের এক পর্যায়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া একান্ত আলাপের কিছু অংশ তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাপানে সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ভবিষ্যতের কথা বলে আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে স্নেহভরে বলেছেন, তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। এই বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং রাজনৈতিকভাবে এটিকে তার বড় অর্জন বলে মনে করছেন। তারেক রহমান মনে করেন, এই ধরনের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি তার স্ট্যাটাসে স্পষ্ট করে দেন যে, বিরোধীদের সমালোচনা তাকে দমাতে পারবে না। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের অন্ধ অনুসারী নন, বরং আমজনতার হয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতীতে যেসব প্রতিকূলতা তিনি কাটিয়ে উঠেছেন, সেগুলোই তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। তারেক রহমান আরো বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবেই, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কোনো ব্যক্তির চরিত্র হনন করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। তিনি তার সমালোচকদের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান এবং নিজের দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছে নিজের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো দলগুলোর সমালোচনার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তারেক রহমানের মতো নেতাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া বা প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার বিষয়টি এই দলগুলোর জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে। তবে তারেক রহমান বরাবরের মতোই অটল অবস্থানে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। দলের কর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্টের কমেন্ট বক্সে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার দিকে মনোযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ