ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ: রাশেদ খানকে প্রমাণের চ্যালেঞ্জ জামায়াতের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে জামায়াতে ইসলামী এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অভিযোগকারীকে তা প্রমাণের জন্য প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার, যখন মো. রাশেদ খাঁন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন যে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বারিধারার একটি বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং দলটির আরেক নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ওই কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই স্ট্যাটাসের পরপরই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয়। দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী সব সময় নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখাই দলের নীতি। এমন পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতাকে নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো নিছক রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিবৃতিতে জামায়াত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যারা এই ধরণের অসত্য তথ্য প্রচার করছেন, তাদের মানসিক ও রাজনৈতিক সুস্থতা নিয়েই দলটি প্রশ্ন তুলছে। জামায়াতের দাবি, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা সংবাদের আশ্রয় নিয়েছে। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, অভিযোগকারী যে তথ্যটি সামনে এনেছেন, তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। যদি সত্যিই এমন কোনো বৈঠক হয়ে থাকে, তবে তার অকাট্য প্রমাণ জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক তৎপরতায় ঈর্ষান্বিত হয়েই এই অপপ্রচারের নাটক সাজানো হয়েছে। এ ধরণের মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা সফল হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। জামায়াত নেতারা মনে করেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে ন্যূনতম তথ্যের সত্যতা যাচাই করা উচিত, যা বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেশের গণমাধ্যমগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো ভিত্তিহীন খবর প্রচার না করে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এছাড়া সাধারণ নাগরিক ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা এ ধরণের প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হন এবং প্রকৃত সত্য অনুধাবনের চেষ্টা করেন। অভিযোগকারী মো. রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও পরবর্তীতে জামায়াতের এই পাল্টা চ্যালেঞ্জ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ালো। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগকারী এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত হাজির করতে পারেন কি না, নাকি এটি নিছক কথার লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন