কুষ্টিয়ায় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে হানিফসহ চারজনের বিচার: রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণের সম্ভাবনা আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম এক নতুন মোড় নিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই এবং আগস্ট মাসে দেশব্যাপী যে ছাত্র-জনতার আন্দোলন হয়েছিল, সেই সময়ে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে আদালত রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা ধারণা করছেন।

তদন্তকারী সংস্থা এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। গত কয়েক মাসে আদালতে একাধিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে মামলার নথিপত্র এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। অভিযুক্ত মাহবুব-উল আলম হানিফসহ অপর তিন আসামির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছে। আজ কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত অথবা সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। যদি সব পক্ষের শুনানি শেষ হয়, তবে বিচারক মামলার রায় ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট একটি তারিখ ঘোষণা করতে পারেন।

এই মামলাটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়, বরং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্বজনরা এই বিচারের অপেক্ষায় দীর্ঘ দিন ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অবশ্য দাবি করছেন যে, মামলার তদন্তে কিছু অসংগতি রয়েছে এবং তারা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ প্রমাণে আদালতে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি পেশ করবেন। তবে সব আইনি লড়াই শেষে আজ আদালতের বারান্দা থেকে কী নির্দেশনা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে কুষ্টিয়াসহ সারাদেশের মানুষ।

উল্লেখ্য যে, একই সময়ে অন্য একটি চাঞ্চল্যকর মামলার বিষয়েও নতুন তথ্য এসেছে। সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ বা টাস্কফোর্স তদন্ত প্রক্রিয়া আরও নিখুঁত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সময় চেয়ে নিয়েছে। তবে কুষ্টিয়ার আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া এই মামলার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের তৎপরতা বেশ দৃশ্যমান। বিচার ব্যবস্থা যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পায়, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে।

আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, আজকের কার্যদিবসে আদালত যদি মামলার চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করে, তবে খুব দ্রুতই রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রাষ্ট্রপক্ষ যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী যে তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। অপরদিকে, মামলার রায় ঘোষণা ঘিরে কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। বিচারের এই পর্যায়ে এসে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা আদালতের আজকের কার্যক্রম এবং রায়ের দিন ঘোষণার দিকে সতর্ক নজর রাখছি। পরবর্তী আপডেট পাওয়া মাত্রই বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন