পশুর নদীতে কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

মংলা বন্দর চ্যানেলের পশুর নদে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ। সোমবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় জাহাজটি তলিয়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন কয়লা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এমভি ফুলবাড়ি নামের কার্গো জাহাজটি পশুর নদের নির্দিষ্ট একটি স্থানে অন্য একটি ট্যাংকারের সঙ্গে ধাক্কা লাগার ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয়। পানির তীব্র স্রোত ও আঘাতের ফলে ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে জাহাজটি দ্রুতই ডুবে যেতে শুরু করে।

দুর্ঘটনার সময় জাহাজটিতে নাবিক ও সহকারীরা থাকলেও তারা নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার ফলে এর ভেতরে থাকা বিশাল পরিমাণ কয়লা পশুর নদের তলদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করেছে। সুন্দরবন সংলগ্ন এই নদের পানি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে স্থানীয় পরিবেশবিদ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, জাহাজটি কয়লা খালাস বা পরিবহনের একটি রুটিন প্রক্রিয়ায় ছিল। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক জটিলতা বা নৌ-চলাচলের নিয়মভঙ্গের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা তদন্তসাপেক্ষ। বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাকবলিত স্থানটি চিহ্নিত করার কাজ করছে যাতে অন্য কোনো ছোট-বড় জাহাজ চলাচলের সময় বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পশুর নদের এই অংশে প্রায়ই ছোট-বড় কার্গো জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু ট্যাংকারের ধাক্কায় জাহাজ ডুবির ঘটনাটি নদীপথে চলাচলের নিরাপত্তার অভাবকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ বা ডুবুরি দল খুব দ্রুতই জাহাজটি উদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করবে বলে বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নদীগর্ভ থেকে এত বিপুল পরিমাণ কয়লা অপসারণ করা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং চ্যালেঞ্জিং একটি প্রক্রিয়া হবে।

দুর্ঘটনার পর মংলা বন্দর দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক গতিপথ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে টহল দিচ্ছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। জাহাজটির মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন