বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবার আজও চলচ্চিত্র জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে চলেছে। তার দুই ছেলে—বাপ্পারাজ এবং সম্রাট—দুইজনই পর্দায় নিজের ছাপ রেখে গেছেন। বাপ্পারাজের প্রথম ছবি ‘মুক্তি’ থেকে শুরু করে সম্রাটের ‘মহানগর’ পর্যন্ত, দুজনই বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে নিজস্ব স্বকীয়তা প্রদর্শন করেছেন। তবে রাজ্জাকের তৃতীয় সন্তান, যাকে সাধারণত মিডিয়ায় কমই উল্লেখ করা হয়, এখনও কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করেননি।
রাজ্জাকের পরিবারিক পটভূমি এবং তার নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানলে দেখা যায়, তিনি ১৯৫০-এর দশকে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করে ‘মুক্তি’, ‘দুপুরের রোদ’ ইত্যাদি ছবিতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয় জয় করেন। তার সাফল্য তার সন্তানদের জন্য একটি মডেল হয়ে দাঁড়ায়। বাপ্পারাজ এবং সম্রাট দুজনই ছোটবেলা থেকেই পিতার সঙ্গে সিনেমা হলের আলোয় বেড়ে ওঠেন, তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা অভিনয়ের পথে পা বাড়ায়।
বাপ্পারাজের প্রথম পদক্ষেপ ছিল ‘মুক্তি’তে সহ-অভিনেতা হিসেবে, যেখানে তিনি পিতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর তিনি ‘মহানগর’, ‘অন্তরঙ্গ’ ইত্যাদি ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে নিজের নাম গড়ে তোলেন। সম্রাটের ক্ষেত্রে, তার প্রথম বড় ছবি ‘দূরত্ব’ ছিল, যেখানে তিনি আধুনিক প্রেমের জটিলতা তুলে ধরেছেন। দুজনেরই অভিনয় শৈলী পিতার তুলনায় ভিন্ন, তবে তাদের কাজের গুণমান এবং দর্শকের স্বীকৃতি একই রকম।
অন্যদিকে, রাজ্জাকের তৃতীয় সন্তান—যার নাম মিডিয়ায় কমই প্রকাশ পায়—বৈশ্বিকভাবে কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করেননি। তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে পরিবারিক সূত্রে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি নিজের পেশা নির্বাচন করেছেন যা চলচ্চিত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তিনি ব্যবসা, শিক্ষা বা অন্য কোনো পেশাগত ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে জানা যায়, যদিও সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের মতে, এই সন্তানটি কখনোই পিতার মতো পর্দায় আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। তিনি ছোটবেলা থেকেই পিতার চলচ্চিত্রের পরিবেশে বেড়ে ওঠলেও, তার আগ্রহের দিকটি ভিন্ন ছিল। পরিবারিক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি শিক্ষার প্রতি বেশি মনোযোগী এবং ব্যবসা ক্ষেত্রে নিজের স্বপ্ন পূরণে মনোনিবেশ করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে পিতামাতা ও বাকি পরিবার সমর্থন করেছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে যে প্রত্যেকেরই নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার আছে।
বাপ্পারাজ ও সম্রাটের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, তাদের ক্যারিয়ার গঠন পিতার প্রভাবের পাশাপাশি নিজের প্রচেষ্টার ফল। তৃতীয় সন্তান যদিও চলচ্চিত্রে না থাকলেও, তিনি পরিবারে সমর্থন ও সম্মান পেয়েছেন। তার এই পছন্দকে কখনোই কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়নি; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবারিক গতি-প্রকৃতি চলচ্চিত্রের বাইরে একটি সামাজিক বার্তা বহন করে—যে কোনো পেশা, তা হোক শিল্প, ব্যবসা বা শিক্ষা, প্রত্যেকেরই নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করার স্বাধীনতা আছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তৃতীয় সন্তানকে চলচ্চিত্রের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তকে একটি সচেতন পছন্দ হিসেবে দেখা যায়, যা পরিবারিক সমর্থন এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সমন্বয়।
সামগ্রিকভাবে, নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবারে দুইজন সন্তান চলচ্চিত্রে সক্রিয়, আর তৃতীয় সন্তান তার নিজস্ব পথে অগ্রসর। এই বৈচিত্র্য পরিবারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং দর্শকদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছে—যে সাফল্য শুধুমাত্র পর্দায় নয়, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই অর্জিত হতে পারে। ভবিষ্যতে যদি তৃতীয় সন্তান কোনোভাবে চলচ্চিত্রে ফিরে আসেন, তা হলে তা হবে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, তবে বর্তমান সময়ে তিনি তার নির্বাচিত পেশায় সন্তোষজনকভাবে কাজ করছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ