আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ৩৫ বছর বা তার কম বয়সী ব্যক্তিরাই কেবল আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
দেশের আইন অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট বার কাউন্সিলের একটি কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় আইনজীবী তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর কাউন্সিল সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই সভার সিদ্ধান্তের আলোকেই পরবর্তী করণীয় হিসেবে এখন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
আইন পেশায় নতুনদের সুযোগ তৈরি এবং পেশাগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই বার কাউন্সিল এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে যারা আইন শিক্ষায় ডিগ্রি অর্জনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকে। এর আগে তালিকাভুক্তির বয়সসীমা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো কঠোর বাধ্যবাধকতা ছিল না, যার ফলে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা আইন পেশায় আসার সুযোগ পেতেন। তবে এখন থেকে সুনির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা বর্তমানে আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন, তাদের সময়াবদ্ধ পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আইন পেশায় দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে যারা এগোতে চান, তাদের জন্য বার কাউন্সিলের এই নতুন নিয়মটি একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে এবং তালিকাভুক্তির আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রার্থীর জন্ম তারিখ ও বয়স এখন গুরুত্বপূর্ণ যাচাইযোগ্য তথ্যে পরিণত হবে।
আইন অঙ্গনের প্রবীণ আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আইন পেশায় তারুণ্যের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীদের সেবায় আরও উদ্যমী আইনজীবীরা যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে যারা ইতোমধ্যে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বয়সের এই সীমারেখার কাছাকাছি রয়েছেন, তাদের জন্য এটি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবুও পেশাগত মান ও শৃঙ্খলার খাতিরে এই নতুন নীতিমালার বাস্তবায়ন প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য যে, এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বার কাউন্সিল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তালিকাভুক্তির আবেদন করার ক্ষেত্রে এখন থেকে বয়সসীমা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যারা নির্ধারিত এই ৩৫ বছর বয়সসীমার মধ্যে থাকবেন, শুধুমাত্র তারাই পরবর্তী তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। এখন থেকে যারা নতুন করে আইন পেশায় আসতে ইচ্ছুক, তাদের প্রত্যেকের আবেদনের সাথে বয়সের প্রমাণপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি আরও গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।
বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের পরপরই আইন অঙ্গনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি আইন পেশার মান নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার একটি অংশ। এই নতুন নিয়ম বলবৎ হওয়ার ফলে তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বয়সের কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের চর্চায় এক নতুন ধারা সূচিত হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৪ অপরাহ্ণ