এলভিস প্রিসলির গানের স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে এআই কোম্পানি অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তি এলভিস প্রিসলির জনপ্রিয় গানগুলো নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এলভিসের ২৭৪টি গানের কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব বিনা অনুমতিতে ব্যবহারের অভিযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাটি প্রযুক্তি বিশ্বে এবং সংগীতশিল্পের স্বত্বাধিকারীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ পেয়েছে যে, অ্যানথ্রোপিক তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণের সময় কোনো প্রকার লাইসেন্স কিংবা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই এলভিস প্রিসলির এসব কালজয়ী গান ব্যবহার করেছে। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা যখন বিভিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেকে উন্নত করে, তখন প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ ডেটা বা তথ্যের প্রয়োজন হয়। সংগীতের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে শিল্পী বা স্বত্বাধিকারীদের অনুমতি নেওয়া বা রয়্যালটি প্রদানের বিষয়টি প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, এলভিস প্রিসলির উত্তরাধিকারী বা তার গানের স্বত্বাধিকারীরা এই মামলার মাধ্যমে সুরকার ও গীতিকারদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছেন। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেভাবে নির্বিচারে সৃজনশীল কাজগুলোকে তাদের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এআই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে, তা মেধাস্বত্ব আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মামলাটিতে দাবি করা হয়েছে যে, গানগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে অ্যানথ্রোপিক শুধু মেধাস্বত্ব আইনই ভঙ্গ করেনি, বরং বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে শিল্পীদের শ্রমকেও অবমূল্যায়ন করেছে।

বর্তমানে এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে কপিরাইট বা মেধাস্বত্বের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বড় বড় এআই কোম্পানিগুলো ইন্টারনেটে থাকা প্রচুর পরিমাণ টেক্সট, ছবি ও গান তাদের মডেলে ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে মূল সৃষ্টিকর্তারা কোনো ধরনের পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদের কাজের অননুমোদিত ব্যবহার দেখছেন। এলভিস প্রিসলির মতো একজন বৈশ্বিক তারকার গানের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক কপিরাইট আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই মামলাটি কেবল এলভিস প্রিসলির গানের কপিরাইট রক্ষা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে চলমান এআই এবং মেধাস্বত্ব বিতর্ককে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন সংগীত জগতের পর্যবেক্ষকরা। আদালতে এখন দেখার বিষয়, অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেলগুলো কীভাবে কাজ করে এবং তারা তাদের প্রশিক্ষণের তথ্যের উৎস হিসেবে এলভিসের গানগুলো ব্যবহারের যথাযথ আইনি ভিত্তি দেখাতে পারে কি না। যদি আদালত বাদীদের পক্ষে রায় দেন, তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের এআই প্রশিক্ষণের ডেটাসেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে বাধ্য হবে।

অন্যদিকে, অ্যানথ্রোপিকের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে প্রযুক্তি শিল্পের সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, এ ধরনের মামলাগুলো দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ের দিকে ধাবিত হয়। সংগীতের বাণিজ্যিক ব্যবহারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের কাজের মূল্যায়ন করার দাবিটি এখন সময়ের বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলভিস প্রিসলির ভক্ত এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সংগীতপ্রেমীরা এই মামলার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা ভবিষ্যতে সৃজনশীল কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন