বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফরাসি ও বাংলা অপেরার অনন্য মেলবন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের সংস্কৃতিমনা মানুষের জন্য একটি নতুন ও চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে অপেরার মঞ্চ। বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে অপেরা এক আভিজাত্যপূর্ণ ধারা হিসেবে সমাদৃত, আর এবার সেই অপেরার সুরের সাথে মিশতে যাচ্ছে বাংলার নিজস্ব সংগীতের মাধুর্য। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ফরাসি এবং বাংলা অপেরার ফিউশন পরিবেশন করতে যাচ্ছে একদল প্রতিভাবান শিল্পী। এই আয়োজনটি সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পের কোনো সীমানা থাকে না, বরং তা বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আরও সমৃদ্ধ হয়। ফরাসি অপেরার গাম্ভীর্য ও পাশ্চাত্য সুরের সংমিশ্রণে বাংলার আবহ ও লোকজ ধারার এক অভাবনীয় রূপান্তর দেখার অপেক্ষায় আছেন দর্শক। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র সংগীত পরিবেশনা নয়, বরং দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরির প্রয়াস। ফরাসি অপেরার ধ্রুপদী সুরের ব্যাকরণ মেনে বাংলা গানের ভাব ও মেজাজকে ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছেন শিল্পীরা।

এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আয়োজনের অংশ হিসেবে মঞ্চস্থ হচ্ছে। জানা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাখা হয়েছে ১১ দিনের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। এই দীর্ঘ আয়োজনেরই প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ফরাসি ও বাংলা অপেরার এই ফিউশন। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এই অপেরার জন্য মঞ্চকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে সুর ও আলোর খেলায় ফুটে উঠবে ফরাসি নন্দনতত্ত্ব ও বাংলার সৃজনশীলতা।

সংগীত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে অপেরা সংস্কৃতির বিস্তার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ধারার সাথে স্থানীয় সংগীতের সমন্বয় ঘটানো একটি সাহসী পদক্ষেপ। এতে করে একদিকে যেমন বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলার সুরের ভিন্নতা সম্পর্কে জানতে পারবেন, অন্যদিকে স্থানীয় শ্রোতারাও বিশ্বসংগীতের এই ধ্রুপদী ধারার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, অপেরার পরিবেশনায় কণ্ঠের কারুকাজের পাশাপাশি নাট্যশৈলী ও অভিনয়ের বিশেষ সমন্বয় রাখা হয়েছে। ফরাসি ভাষার গীতিধর্মী অপেরার সাথে বাংলা গানের সুরের যে একটি চমৎকার রসায়ন তৈরি হতে পারে, তার প্রমাণ মিলবে এই মঞ্চে। শিল্পীরা তাদের অনুশীলনে সংগীতের মূল সুরকে বজায় রেখেও বাংলা ভাষাকে নতুন এক আবহে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

সব মিলিয়ে এটি কেবল একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক আঙিনায় এক নতুন ধারার সূচনা। আগামী দিনে অপেরার এই চর্চা বাংলাদেশে আরও বিস্তৃত হবে এবং এর মাধ্যমে দেশের শিল্পীরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আরও সুনিপুণভাবে তুলে ধরতে পারবেন বলে আশা রাখছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। অপেরার এই ফিউশন অনুষ্ঠানটি ঘিরে ইতিমধ্যেই সংগীতবোদ্ধা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। ১১ দিনের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন শেষে এটি কতটা দাগ কাটতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন