মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন নাম ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো এবং নামকরণের ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেবল নাম পরিবর্তন নয়, বরং মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও ব্যাপক এবং যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তটি দেশের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার কর্মী এবং বিভিন্ন নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক সংগঠনগুলো মন্ত্রণালয়টির নামকরণের পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনার পর এখন থেকে দাপ্তরিক সব নথিপত্রে নতুন এই নামটিই ব্যবহৃত হবে। নতুন নামকরণ অনুযায়ী, ‘মহিলা’ শব্দের পরিবর্তে ‘নারী’ শব্দটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, নামের এই পরিবর্তন কেবল দাপ্তরিক নয়, বরং এর মাধ্যমে নারীর অধিকার ও সুরক্ষায় সরকারের যে অঙ্গীকার, তা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে যে প্রকল্প ও কার্যক্রমগুলো চলমান রয়েছে, সেগুলো এই নতুন নামের অধীনেই বাস্তবায়িত হবে। নাম পরিবর্তনের ফলে নতুন করে কোনো আইনি জটিলতা বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে দায়িত্বশীল সূত্র। গেজেট প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সকল দফতর ও সংস্থাকে নতুন নামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

তবে কেবল নাম পরিবর্তনই নয়, মন্ত্রণালয়ের সেবার মান উন্নত করা এবং মাঠ পর্যায়ে এর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে সরকারি সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই নামকরণের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে নারী ও শিশুদের অধিকারের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে।

সামগ্রিকভাবে, মন্ত্রণালয়ের নামকরণের এই পরিবর্তন সরকারের একটি বড় প্রশাসনিক সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং তাদের ক্ষমতায়ন যে রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য, তা এই নামকরণের মাধ্যমেই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে সরকার। আগামী দিনগুলোতে এই মন্ত্রণালয়ের কাজের ধরন ও সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার বিকেলে গেজেট প্রকাশের পরপরই সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন নামটি ব্যবহারের নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কারের এই প্রক্রিয়া সামনে আরও চলমান থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নারী ও শিশুর কল্যাণে এই মন্ত্রণালয় যে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন