রাজধানীতে ফুটপাতে চক্রাকার চাঁদাবাজি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর ফুটপাতে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পুনরায় দোকান বসানোর এক চক্রাকার চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ ও হকাররা এক ভয়াবহ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র পক্ষ থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে মাঠপর্যায়ের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ফুটপাতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং অটোরিকশাচালকদের জিম্মি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়মিত চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, একদল লোক প্রথমে প্রশাসনের সহায়তায় বা নিজ উদ্যোগে ফুটপাত থেকে দোকান উচ্ছেদ করছে, ঠিক তার অল্প সময় পরেই অন্য একটি দল মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পুনরায় সেখানে দোকান বসানোর ব্যবস্থা করছে। এই প্রক্রিয়াটি একটি চক্রাকারে আবর্তিত হচ্ছে এবং এর ফলে একদিকে যেমন ফুটপাত দখলমুক্ত হচ্ছে না, অন্যদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় সরকারদলীয় কিছু অসাধু লোক ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে। তার মতে, সরকারিভাবে দোকান উচ্ছেদ করার কথা থাকলেও কার্যত তা ফুটপাত বা সাধারণ মানুষের উপকারে আসছে না। উল্টো এটি চাঁদাবাজির একটি নতুন পথ তৈরি করেছে। যখন সরকারি লোকজনের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়, তখন তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নতুন করে অর্থনৈতিক শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়। তিনি এই পরিস্থিতিকে রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

একই সাথে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শককে অপসারণের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার অভাবেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে। ফুটপাতে চাঁদাবাজি কেবল একটি আর্থিক অপরাধ নয়, এটি নাগরিক দুর্ভোগেরও একটি বড় কারণ। তাই এই চক্র ভাঙতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ অবস্থান ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর ফুটপাতে দীর্ঘদিনের এই দখল-উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন বাণিজ্যের পেছনে মূলত স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাব দায়ী। ফুটপাতগুলো জনসাধারণের হাঁটার জন্য নির্দিষ্ট হলেও কার্যত এগুলো এখন বিভিন্ন গোষ্ঠীর উপার্জনের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ ফুটপাতে দোকান বসানোর লাইসেন্স বা অনুমতি প্রদানের নামে অবৈধ টাকা আদায় করছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তারা রাজপথে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তারা রাজধানীজুড়ে ফুটপাতে চাঁদাবাজির এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে হকার ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনলে এই চক্রাকার চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এদিকে আইজিপিকে অপসারণের দাবির মধ্য দিয়ে সংগঠনটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তাদের এই অসন্তোষ ও উদ্বেগের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ফুটপাতের এই দখল বাণিজ্য বন্ধে আদৌ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন