জাপান সফরের প্রথম দিনেই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় টোকিওতে পৌঁছানোর পর সফরের শুরুতেই তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশন এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে এক বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেন। টোকিওর মেইজি কিনেনকানের হানাগাসুমি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে জাপানের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের সাথে তারেক রহমানের আসন্ন শীর্ষ বৈঠকটি এবারের সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা সানায়ে তাকাইচির সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
জাপান সফরকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের জন্য এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সফরে এমন সময় জাপান সফর করছেন যখন বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠক থেকে বিশেষ কোনো বাণিজ্য চুক্তি কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তা সংক্রান্ত সমঝোতার ঘোষণা আসতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে বৈঠক পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
টোকিওর কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যকার শীর্ষ বৈঠকে বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়েও উভয় পক্ষ ফলপ্রসূ আলোচনার সুযোগ পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নৈশভোজের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে সফরের সূচনা হয়েছে, তা আগামী কয়েক দিনের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা জাপানের ব্যবসায়িক নেতাদের সাথেও আলাদাভাবে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য জাপানের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। সব মিলিয়ে টোকিওতে এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কূটনীতিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে।
সফরের পরবর্তী ধাপগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও মতবিনিময় করবেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রায় জাপানের ভূমিকা অপরিসীম। সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারের সফরটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার আস্থার সম্পর্ককে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ