পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় বাধার ঘটনায় নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

পিরোজপুরের মাটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর শেষ বিদায়ের মুহূর্তে জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অন্তিম যাত্রায় এমন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা কেবল অমানবিক নয়, বরং এটি ধর্মীয় ও মানবিক মর্যাদার চরম পরিপন্থী বলে মনে করছেন তিনি। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নাহিদ ইসলাম এই জঘন্য আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন।

দেশের একজন সম্মানিত নাগরিক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে মানিক পশারীর শেষ বিদায় মর্যাদাপূর্ণ হওয়া ছিল কাম্য। কিন্তু সেখানে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তা সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জানাজা পড়া এবং কোনো মানুষের মরদেহ যথাযথ ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি মেনে দাফন করা যেকোনো মানুষের ন্যূনতম মানবিক অধিকার। এই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা কোনো সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তিনি মনে করেন, মৃত্যুর পরবর্তী এই শেষ সম্মানটুকু পাওয়ার অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে, আর এটি কোনো রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বিবাদের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক তার প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেন, মৃত্যু ও দাফনের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে এই ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সামাজিক সহাবস্থানের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতন নাগরিক সমাজের ভূমিকা ও সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নাহিদ ইসলামের মতে, যারা এই ন্যক্কারজনক কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের এই আচরণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে এমন ঘটনা সমাজকে কলঙ্কিত করে।

পিরোজপুরের এই ঘটনাটি নিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা মতপার্থক্যের কারণে সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি দীর্ঘদিনের এই অপরাজনীতি ও অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানে আঘাত লাগলে তা পুরো জাতির আত্মসম্মানে আঘাত লাগার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোনো মৃত ব্যক্তির শেষ বিদায় নিয়ে রাজনীতি বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা কোনো সচেতন মানুষের কাজ হতে পারে না বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

নাহিদ ইসলাম তার মন্তব্যে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এই ধরনের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মৃত্যু পরবর্তী আচার পালনের অধিকার সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন নির্মম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

পরিশেষে, নাহিদ ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঘটনার বিচার চেয়েছেন এবং সমাজ থেকে এই ধরনের উগ্র মানসিকতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা কেবল পিরোজপুর বা একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার ও সামাজিক শিষ্টাচারের প্রশ্নে একটি বড় বার্তা বহন করছে। জানাজা ও দাফন যেকোনো নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার, আর সেই অধিকার নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে নাহিদ ইসলামের স্পষ্ট অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন