নাটোর রেলস্টেশন মসজিদের অজুখানা সংস্কারে স্বস্তি মুসল্লিদের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

নাটোর রেলস্টেশন জামে মসজিদটি যাত্রী, রেলওয়ে কর্মী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেন, বিশেষ করে যারা ট্রেনের জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেন, তাদের জন্য এই মসজিদটি ভরসার জায়গা। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটির অজুখানা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এর ফলে নিয়মিত নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা চরম বিড়ম্বনায় পড়তেন। এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে তরুণদের সংগঠন বন্ধুসভা। সম্প্রতি সংগঠনের সদস্যরা উদ্যোগ নিয়ে অকেজো অজুখানাটি মেরামত ও সংস্কার করেছেন, যার ফলে এখন মুসল্লিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা অজুখানার অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে, সেখানে পর্যাপ্ত পানি বা পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাবে মুসল্লিদের নামাজ পড়তে কষ্ট হচ্ছিল। স্টেশন সংলগ্ন কাঁচাবাজারের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এই মসজিদটি সর্বদা মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে। স্থানীয় লোকজন জানান, মসজিদটি যেহেতু বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং অনেকের সম্মিলিত প্রয়াসে পরিচালিত, তাই এককভাবে এর সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘদিনের এই অবহেলার কারণে অজুখানার টাইলস ভেঙে গিয়েছিল এবং পানির লাইনেও ত্রুটি দেখা দিয়েছিল।

অবশেষে বন্ধুসভার সক্রিয় কর্মীরা বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং সংস্কার কাজের সিদ্ধান্ত নেন। তারা নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেন। এখন অজুখানাটি পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে এবং সেখানে পানির প্রবাহও স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটেছে। যারা নিয়মিত যাতায়াতের পথে এখানে নামাজ আদায় করেন, তারা এখন সুন্দর ও পরিষ্কার পরিবেশে অজু করে নামাজ পড়তে পারছেন।

মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্ধুসভার এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়েছে। এটি শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার নয়, বরং স্থানীয় জনসেবার একটি বড় উদাহরণ। অনেক যাত্রী ও পথচারী এই উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা ট্রেনের জন্য দীর্ঘসময় স্টেশনে অপেক্ষা করেন, তাদের জন্য একটি পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। এখন সেই পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় সবাই খুশি।

বন্ধুসভার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, ছোট ছোট সামাজিক কাজের মাধ্যমেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তরুণদের এমন ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত থাকলে স্থানীয়ভাবে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে আসবে। এই সংস্কার কাজের ফলে মসজিদটির পরিবেশ এখন অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত নামাজিদের পাশাপাশি পথচারীদের জন্যও ইবাদত করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন