রাজউক প্লট বরাদ্দে নজিরবিহীন অনিয়ম, পূর্বাচল ও ঝিলমিলে স্থগিত কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৪ অপরাহ্ণ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আবাসন প্রকল্পগুলোতে বিগত দেড় দশকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পূর্বাচল নতুন শহর এবং ঝিলমিল প্রকল্পের বড় একটি অংশ জুড়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্লট হস্তান্তরের বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এসব বরাদ্দের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রকল্পের পরবর্তী সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘ সময়কাল ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মোট ১,৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, এর মধ্যে ১,০৭৪টি প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। বরাদ্দের এই তালিকায় রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লট সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রশাসনিকভাবে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং যারা এই প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের কর্মকাণ্ডও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে।

সাধারণত রাজউকের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলি অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবাদে অনেকে নিয়ম ভেঙে সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বাচল প্রকল্পে প্রায় ৯৪৪টি প্লট এভাবে বিতরণের তথ্য পাওয়া গেছে, যা ওই প্রকল্পের আবাসন পরিকল্পনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ঝিলমিল প্রকল্পেও একইভাবে অনিয়মের ছায়া পড়েছে। সরকারি এই মূল্যবান সম্পদ বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব এবং নথিপত্রে গরমিল থাকায় কর্তৃপক্ষ এখন কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র ও বরাদ্দের তালিকাগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এই অনিয়মের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু বরাদ্দ প্রক্রিয়াটিতে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে, তাই কোনো নতুন বরাদ্দ বা নথি সংক্রান্ত কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

ভুক্তভোগী মহল ও আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম কেবল সরকারি সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং পরিকল্পিত নগরায়ণ প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের বাধা। যারা প্রকৃত অর্থে প্লট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় বঞ্চিত হয়েছেন কি না, সেটিও এখন তদন্তের দাবি রাখছে। সাধারণ মানুষের মাঝেও এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকল তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। অনিয়ম প্রমাণিত হলে বরাদ্দের ক্ষেত্রে যথাযথ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে ভবিষ্যতে যাতে কোনো প্রকল্পেই রাজনৈতিক বিবেচনায় এই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। আগামীতে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন