ঋতুস্রাবের কঠিন সময়ে বিজয়ের যত্ন ও পাশে থাকা নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৫ অপরাহ্ণ

বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা কথা বলতে পছন্দ করেন না। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কিছু বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন যা সচরাচর তারকাদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় খুব একটা শোনা যায় না। ঋতুস্রাবের সময়কার শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে অত্যন্ত সাবলীলভাবে কথা বলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে এই সময়ে জীবনসঙ্গী বিজয় দেবেরাকোন্ডার ভূমিকা ও তার সেবাযত্নের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলেও আমাদের সমাজে এখনো এটি নিয়ে এক ধরনের ট্যাবু বা জড়তা কাজ করে। অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। রাশমিকা মান্দানা সেই গণ্ডি ভেঙে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মাসের এই নির্দিষ্ট সময়টি আসার আগে থেকেই তার মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করে। শারীরিক ব্যথার পাশাপাশি মানসিক চাপও তাকে পেয়ে বসে। অনেক সময় যন্ত্রণার তীব্রতা এতটাই বেশি থাকে যে, স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাওয়া তার জন্য দুরূহ হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সঙ্গীর সমর্থন ও সহমর্মিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই উপলব্ধিই তিনি প্রকাশ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে রাশমিকা জানান, কেবল ভালোবাসার সম্পর্কের ভিত্তি হলো একে অপরের পাশে থাকা। বিশেষ করে যখন কোনো একজন মানুষ শারীরিক বা মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যান, তখন সঙ্গীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। বিজয় দেবেরাকোন্ডা সেই জায়গা থেকে কতটা সচেতন এবং দায়িত্বশীল, তার প্রশংসা করতে গিয়েই রাশমিকা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, ঋতুস্রাবের তীব্র যন্ত্রণার সময় বিজয় যেভাবে তার খেয়াল রাখেন, সেটি তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো বড় কোনো ঘটনা নয়, বরং ছোট ছোট সেবাযত্নই একজন মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে, যা তিনি বিজয়ের কাছ থেকে নিয়মিত পেয়ে থাকেন।

রাশমিকা আরও বলেছেন, জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন তা সাধারণ মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। তার প্রথম ঋতুস্রাবের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই সময়টা মেয়েদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। অনেক সময় পরিবারের সদস্য বা কাছের মানুষেরা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। কিন্তু বিজয় যেভাবে এই বিষয়টি সহজভাবে গ্রহণ করেছেন এবং তাকে মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে আরাম দিতে সচেষ্ট থাকেন, তা অনেকের জন্যই শিক্ষণীয় হতে পারে।

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন সম্পর্কের সমীকরণগুলো পাল্টাচ্ছে, তখন তারকাদের এমন খোলামেলা বক্তব্য সমাজিক প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক বার্তা দেয়। অনেকেই মনে করছেন, রাশমিকার এই অকপট স্বীকারোক্তি ও বিজয়ের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে আনল। কোনো বিশেষ দিনে উপহার পাওয়া বা বাইরে ঘুরতে যাওয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, কঠিন সময়ে সঙ্গীর হাত শক্ত করে ধরে থাকা এবং প্রয়োজনে কিছুটা বিশ্রাম বা সেবাযত্নের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। রাশমিকা ও বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনের এই অংশটি মূলত তাদের সম্পর্কের সেই পারস্পরিক বিশ্বাসের কথাই জানান দেয়।

সবশেষে রাশমিকা জানিয়েছেন, তাদের সম্পর্ক কেবল গ্ল্যামার বা সিনেমার পর্দার রসায়ন নয়, বরং এটি অনেক বেশি বাস্তব ও মানবিক। একে অপরের পাশে থাকার যে সংস্কৃতি তারা গড়ে তুলেছেন, তা তাদের প্রতিদিনের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। ঋতুস্রাবের মতো একটি যন্ত্রণাদায়ক সময়কে তারা যেভাবে একে অপরের সহযোগিতায় অতিক্রম করেন, তা অনেক দম্পতির জন্যই উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনের এই একান্ত মুহূর্তগুলো জনসমক্ষে আনার মাধ্যমে রাশমিকা কেবল তার সঙ্গীর প্রশংসা করেননি, বরং আধুনিক সম্পর্কে পারস্পরিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন