শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৬ অপরাহ্ণ

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী যখন বাজারে পা রাখেন, তখন তাদের মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন। কিন্তু অনেকেই না বুঝে বিনিয়োগ করে নিজের কষ্টার্জিত পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় থাকেন। বাজারে নিয়মিত মুনাফা ও লভ্যাংশ দিচ্ছে এমন কোম্পানির শেয়ার খুঁজে পাওয়া যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি কোন শেয়ার কিনলে লোকসানের ঝুঁকি কম থাকবে, তা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। একটি সাধারণ ভ্রান্ত ধারণা হলো, ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও কম হলে সেটিই বিনিয়োগের জন্য আদর্শ সুযোগ। তবে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু কম দামি শেয়ার কিনলেই লাভের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

বিনিয়োগের আগে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, তা হলো কোম্পানির মৌলিক অবস্থা। কোনো শেয়ারের দাম কেন কম বা কেন বেশি, তার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। অনেক সময় ভালো কোম্পানির শেয়ারের দামও বাজারের পরিস্থিতির কারণে কমে যেতে পারে, আবার দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম কারসাজির কারণে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত শুধু পিই রেশিওর ওপর নির্ভর না করে কোম্পানির গত কয়েক বছরের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা। কোম্পানিটি নিয়মিত লভ্যাংশ দিচ্ছে কি না, তাদের ব্যবসার পরিধি কেমন এবং তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে কোনো গরমিল আছে কি না, তা যাচাই করা বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রাথমিক দায়িত্ব।

বাজারে কারসাজির ভয় সব সময় থাকে। অনেক সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রলুব্ধ হয়ে বিনিয়োগ করেন এবং পরে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন। এই ধরনের ফাঁদ থেকে বাঁচতে গুজবের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা এবং নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক সংবাদ বিশ্লেষণ করার অভ্যাস গড়ে তোলা বিনিয়োগকারীদের জন্য উপকারী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো একটি খাতে সাময়িক মন্দা চললেও ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধৈর্য ধরে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের মানসিকতা থাকলে শেয়ারবাজারে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যারা দ্রুত বড়লোক হতে চান, তারাই সাধারণত ফটকাবাজির কবলে পড়েন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য আনাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। সব টাকা একটি মাত্র খাতে বা একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন খাতের ভালো শেয়ারে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। এতে ঝুঁকি কমে এবং বাজারের অস্থিরতা থেকে নিজেকে কিছুটা নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়।

সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কেবল একটি দেশের বাজারের অস্থিরতা দেখে আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। বিশ্ববাজারে যখন বড় ধরনের ধস নামে, তখন তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে বিনিয়োগ করার সময় নিজের দেশের কোম্পানির অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, লভ্যাংশ প্রদানের ইতিহাস এবং বর্তমানে তাদের ব্যবসার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, শেয়ারবাজার কোনো জুয়া খেলার জায়গা নয়, বরং এটি একটি শিল্প ও ব্যবসার অংশীদার হওয়ার মাধ্যম। তাই এখানে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হলো বিশ্লেষণ, ধৈর্য এবং বিচক্ষণতা। আবেগের বশবর্তী হয়ে বা অন্যের পরামর্শে না বুঝে বিনিয়োগ করলে লোকসানের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা কাম্য নয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন