পাখি সংরক্ষণের বার্তায় মুখরিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। আর এই পাখিদের অবারিত বিচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা নিয়ে সম্প্রতি একটি বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশের জনবহুল এলাকাগুলোতে এই প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় যে, পৃথিবীটা কেবল মানুষের নয়, এটি পাখিদেরও সমান অধিকারের জায়গা।

তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই পদযাত্রায় পাখি সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে নানা দিক আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার হাতে নিয়ে হেঁটে হেঁটে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পোস্টারগুলোতে পাখি শিকারের ভয়াবহতা, হাটে-বাজারে পাখি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন অবৈধ বাণিজ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজকরা সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং পাখি নিধন যে পরিবেশের জন্য কতটা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বুঝিয়ে বলেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণরা জানান, পাখিরা আমাদের পরিবেশের অন্যতম বন্ধু। তারা পরাগায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ আমরা অবলীলায় তাদের আবাসস্থল ধ্বংস করছি এবং শিকারে লিপ্ত হচ্ছি। এই অমানবিকতা রোধ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে নগরায়নের ফলে যে হারে গাছপালা কমে যাচ্ছে, তাতে পাখিরা তাদের নীড় হারাচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে খাঁচায় বন্দি করে পাখি বিক্রির যে প্রবণতা দেখা যায়, তা রোধ করতে না পারলে প্রকৃতি তার স্বাভাবিক ছন্দ হারাবে।

পথচারীদের অনেকেই এই অভিনব প্রচারণায় সাড়া দিয়েছেন। সচেতনতামূলক বার্তাগুলো তাদের নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। অনেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তারা নিজেরা পাখি শিকার করবেন না এবং কেউ পাখি শিকার করলে বা বিক্রির চেষ্টা করলে প্রশাসনকে জানাবেন। আয়োজকদের মতে, আইন দিয়ে সবসময় সব অপরাধ দমন করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। এই ধরনের পদযাত্রা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কেবল মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা জাগ্রত করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এই কার্যক্রম কেবল একটি দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না আয়োজকরা। তাদের লক্ষ্য, স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সচেতনতা তৈরি করা। ক্যাম্পাসের বনায়ন ও পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তারা। পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত সকাল যেন আবার ফিরে আসে, সেই প্রত্যাশাই এখন সবার। প্রকৃতি ও প্রাণিজগৎ একে অপরের পরিপূরক—এই সত্যটিই দিনভর প্রচারণার মূল উপজীব্য ছিল।

অভিযান চলাকালীন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিটি শেষ হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল তরুণদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের কার্যক্রম কেবল পাখি রক্ষার জন্যই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্যও জরুরি। আগামী দিনে এ ধরনের আরও সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন