সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী নিয়মিত ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঢাকা থেকে এই দুটি গন্তব্যে যাতায়াতকারী মোট ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। হঠাৎ ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট বাতিলের এই ঘটনায় প্রায় ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যারা আগেভাগে টিকিট কেটে রেখেছিলেন এবং বিভিন্ন কাজে সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তারা এখন বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের কারণে একদিকে যেমন যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে বা নির্দিষ্ট সময়ে কাজে যোগ দেওয়া জরুরি, তারা সবচেয়ে বেশি সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন।
ফ্লাইট বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা না গেলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এয়ারলাইনসগুলোর অপারেশনাল জটিলতা অথবা রুট সংক্রান্ত কোনো সমস্যার কারণে এমনটি ঘটতে পারে। তবে যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থার কথা জানায়নি। দীর্ঘ দিন ধরে টিকিট কেটে অপেক্ষায় থাকা অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিমানবন্দর এলাকায় ভিড় করা ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন, কোনো প্রকার আগাম বার্তা ছাড়াই ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা তাদের বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখে ফেলেছে। অনেকে ধার-দেনা করে টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। এখন ফ্লাইটগুলো পুনরায় কখন চালু হবে অথবা বিকল্প কোনো ফ্লাইটে তাদের যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া হচ্ছে না।
বেবিচকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। যাত্রী অধিকার রক্ষায় এয়ারলাইনসগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই রুটে পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক রুটে এমন বড় সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। এটি কেবল যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং দেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। বিশেষ করে সৌদিগামী রুটে প্রবাসীদের যাতায়াত সবচেয়ে বেশি হওয়ায়, প্রতিটি ফ্লাইটই অত্যন্ত সংবেদনশীল। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্রুত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত অথবা বিকল্প ফ্লাইটে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।
বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সহায়তায় ও সমন্বয় সাধনের জন্য বিশেষ কোনো ডেস্কে সহায়তা প্রদানের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। যাত্রীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাত্রীদের জানানো হবে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা এখন প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে ও উদ্বেগে পার করছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ